নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজের সম্ভাব্য বদলির খবরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। প্রায় ১৪ মাস আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নজুড়ে নানা উন্নয়নমূলক কাজ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন।
স্থানীয়রা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর রাস্তা, বাউন্ডারি ও স্থাপনার মেরামতসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি ফসলি জমিতে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন তিনি। মাদক ও বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে দিন-রাত অভিযান চালানো ছাড়াও বাজারে রাস্তা দখলমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
গ্রামীণ হাটবাজার উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তিনি নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা গুরুদাসপুর পৌরসভার চারতলা ভবনটি দ্রুত সংস্কার করে সচল করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে তিনি পৌর প্রশাসক হিসেবে অফিস পরিচালনা করছেন।
উপজেলা প্রশাসনিক এলাকাকে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন করতে মেইনগেট, বাউন্ডারি, স্মৃতিসৌধ নির্মাণ, পরিত্যক্ত নিচু জায়গা বালু দিয়ে ভরাট, ফুলের বাগান তৈরি এবং পুকুরপাড়ে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে উপজেলা চত্বরটি অনেকটা পার্কের মতো সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়ে উঠেছে। শিশুদের বিনোদন ও খেলাধুলার পরিবেশ তৈরিতেও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।
গত বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৪০ বছর পর চলনবিলে ঐতিহাসিক নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয় তার উদ্যোগে। এছাড়া অসুস্থ ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা, গরিব শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং পৌরসভার জিয়া খাল সংস্কারের উদ্যোগও গ্রহণ করেছেন। পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে।
পৌর মার্কেট, কভার্ড ড্রেন, শিশু পার্কসহ উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের তদারকিতেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে মশিন্দা ইউনিয়নের বাহাদুরপাড়া গ্রামের দীর্ঘদিনের কাঁচা রাস্তার দুরবস্থা সরেজমিনে দেখে দ্রুত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং প্রকল্পটি অনুমোদনও পেয়েছে। খুব শিগগিরই কাজটির উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে।
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে গুরুদাসপুর উপজেলার ৬৮টি ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এদিকে হঠাৎ করে তার বদলির সম্ভাবনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে তার আরও কিছুদিন দায়িত্বে থাকা প্রয়োজন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীন সাংবাদিক মো. শাহজাহান আলী বলেন, “ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ আন্তরিক, মানবিক, পরিশ্রমী, সৎ ও স্বচ্ছ একজন অফিসার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে সুদৃষ্টি দিয়ে অনেক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে এনেছেন। এমন অফিসার গুরুদাসপুরে আরও কিছু দিন থাকা দরকার।”
গুরুদাসপুর ইনডিপেনডেন্ট প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা, বীর মুক্তিযোদ্ধা দুদু সরদার বলেন, “ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ একজন অক্লান্ত পরিশ্রমী কর্মকর্তা। একজন নারী কর্মকর্তা হয়েও তিনি যে পরিমাণ কাজ করেছেন, তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। উন্নয়ন ও সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাকে আরও কিছুদিন এখানে থাকা দরকার। দেশের অস্থির সময়ে এবং ‘মব জাস্টিস’-এর মতো পরিস্থিতিতে তিনি দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব উপজেলা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “সরকারি চাকরিতে বদলি একটি স্বাভাবিক বিষয়। যেখানে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেখানে কাজ করতে আমি প্রস্তুত।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









