বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে পৈতৃক সম্পত্তির মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে বিরোধের জেরে চয়ন কুমার রায় (২৮) নামে এক কোচিং সেন্টারের শিক্ষককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
৬ মার্চ (শুক্রবার) দিবাগত রাতে উপজেলার ফুলবাড়ী তেতুলতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই প্রদীপ রায় বাদী হয়ে সারিয়াকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফুলবাড়ী বাজার এলাকার মৃত নাজিমুদ্দিন ফকির ওরফে খাজা ফকিরের ছেলে আমিনুর ফকির (৪৫), আমিনুর ফকিরের ছেলে রাব্বি ফকির (২১), মৃত জিন্নাহ ফকিরের ছেলে তাহের ফকির (৪৫), এবং শাহীন ফকিরের ছেলে রাকিব ফকির (২৬) কে আটক করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও মামলা থেকে জানা যায়, ফুলবাড়ী মৌজায় ১৯৪৬ নম্বর দাগের ৩.১০ একর পৈতৃক জমি নিয়ে প্রদীপ রায়দের সাথে অভিযুক্ত আমিনুর ফকির গংদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই সম্পত্তির মালিকানা ও দখল নিয়ে উভয় পক্ষই আদালতে মামলা করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে কোনো নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই প্রতিপক্ষরা গায়ের জোরে জমিটি দখলের পরিকল্পনা করেছিল। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯ ঘটিকার সময় আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ‘বেআইনি জনতা’ হিসেবে জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে ঘর তোলার চেষ্টা চালায়।
ঘটনার সময় প্রদীপ রায়ের দুই ভাই, শ্রী নয়ন কুমার রায় (৩৪) ও শ্রী চয়ন কুমার রায় (২৮), জমিতে গিয়ে ঘর তৈরির কারণ জানতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, এক পর্যায়ে ১নং আসামি আমিনুর ফকিরের হুকুমে ৩নং আসামি রাব্বি ফকির ও ৪নং আসামি রাকিব ফকির তাদের হাতে থাকা ধারালো চাকু নিয়ে চয়ন কুমারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘাতকরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বুকে এবং বুকের বাম পার্শ্বে আঘাত করলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। ঘটনাস্থলেই চয়ন লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে, তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু ঘটে।
হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সারিয়াকান্দি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের বড় ভাই প্রদীপ রায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার পর পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
সারিয়াকান্দি থানা অফিসার ইনচার্জ আ ফ ম আছাদুজ্জামান এদিন প্রতিবেদককে জানান, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। এজাহারভুক্ত ৪ জন আসামিকে ইতিপূর্বেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।
নিহত চয়ন কুমার রায়ের মৃত্যুতে তার পরিবার, এলাকা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় শনিবার সকালে শিক্ষক হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি, আদালতের তোয়াক্কা না করে যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









