পিরোজপুরের কাউখালীতে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। এতে কৃষকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। অল্প খরচে বেশি লাভ এবং ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণের লক্ষ্য সামনে রেখে দিন দিন বাড়ছে সরিষার আবাদ।
আবহাওয়া অনুকূল এবং উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষার আবাদ ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে-ঘাটে দিগন্তজোড়া হলুদ ফুলে মাঠ যেন হলুদের চাদরে ঢেকে গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পাঁচটি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে সরিষা আবাদে লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৭০ হেক্টর জমি। কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিনা সরিষা ৯ এবং বিনা সরিষা ১১ জাতের আবাদ বেশি হয়েছে।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় গ্রামের কৃষক মোঃ শাওন জানান, ভোজ্য তেলের দাম বেশি থাকায় নিজেদের চাহিদা মেটানো এবং বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে ৩৩ শতাংশ জমিতে বিনা সরিষা ১১ জাতের সরিষা চাষ করা হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় লাভ বেশি হওয়ার আশা করছেন তিনি।
সোনাকুর গ্রামের কৃষক সজল বৈরাগী ও হোগলা গ্রামের কৃষক লাকি হাওলাদার বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর সরিষার উৎপাদন গত বছরের তুলনায় বেশি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণকর্মকর্তা প্রদীপ কুমার হালদার জানান, “আমাদের কৃষি বিভাগ উঠান বৈঠকের মাধ্যমে তেল ফসলের আবাদ উন্নয়নের মাধ্যমে সরিষা ফলনের জন্য কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া কৃষকদের রোগ-বালাই প্রতিরোধ ও পরিচর্যা সংক্রান্ত নিয়মিত পরামর্শও প্রদান করা হচ্ছে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস জানান, এ বছর কাউখালী উপজেলায় মোট ৬৬ হেক্টর জমিতে বিনা সরিষা ৯ এবং বিনা সরিষা ১১ আবাদ হয়েছে। যার ফলন প্রায় ১২০ মেট্রিক টন। এ থেকে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন তেল উৎপাদন হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









