ঝালকাঠিসহ জেলার দক্ষিণাঞ্চলের নদীর চরভিত্তিক ক্ষেত জুড়ে দিগন্ত জোড়া সবুজের সমোরোহ। সবুজ লতাপাতার ভাজে ভাজে উঁকি দিচ্ছে ছোট-বড় আগাম জাতের তরমুজ। যা এখনো বিক্রি উপযুক্ত হয়নি। রমজান এবং ঈদ পরবর্তীতে বাড়তি লাভের আশায় এবার আগেভাগেই মাঠে চাষিরা।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর চরাঞ্চলের এবার লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশী জমিতে চাষ হয়েছে সুপার গ্রেড-১ জাতের তরমুজ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা চাষী ও কৃষি বিভাগের।
জেলার রাজাপুর উপজেলার সাংগর, গোপালপুর, চরসাংগর, কেওতা, চরকেওতা, নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নের ভেরনবাড়িয়া গ্রামের বিষখালী নদীর চড়ে, ঝালকাঠি সুগন্ধা নদী, বিষখালী, গাবখান নদীর চরাঞ্চল এবং কাউখালির বেকুটিয়া নদীর তীরবর্তী, বেকুটিয়া সেতু সংলগ্ন বিশাল চরাঞ্চলে ব্যাপকহারে তরমুজ চাষ হচ্ছে। এসব চর এখন মৌসুমি কৃষির প্রধান ভরসা। চাষীদের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই আগাম জাতের তরমুজই বদলে দিবে তাদের ভাগ্য।
তরমুজচাষী আসাদুল বলেন, ‘জমি লিজ নিয়ে আমার প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ হয়েছে, গতবছর লাভ করতে পারিনি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে চার থেকে পাঁচ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবো। অল্প সময়ে বেশী বিনিয়োগ এবং বেশী পরিশ্রম করে দুই-তিনগুণ লাভ করা সম্ভব।’
চাষীদের দাবী সরকারি ঋণসুবিধা ও চরে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে চাষের পরিধি আরো বাড়বে। দিন-রাত তরমুজ ক্ষেত ঘিরে কৃষকদের কর্মচাঞ্চল্য চোখে পড়ার মত। এই রসালো তরমুজ ঘিরেই এখন নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন এ জনপদের চাষিরা।
ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলে রোগবালাই কম, তাই বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে লাভবান হবেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তরমুজ চাষীদের সব ধরনের সহযোগিতা অব্যহত রয়েছে। বাজার ব্যাবস্থাপনা ও পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে চাষীরা ন্যায্য মূল্য পাবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে এ মৌসুমে কয়েক কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্রবাহ সৃষ্টি হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









