সুন্দরবনে চলমান কম্বিং অপারেশনেও দস্যুদের দৌরাত্ম কমছেনা। অভিযানের মধ্যেও অস্ত্রের মুখে জেলে অপহরণ চলছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে সুন্দরবনের শৌলা এলাকা থেকে আবারো অস্ত্রের মুখে ৩ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যু শরীফ বাহিনী।
অপহৃত মোঃ রায়হান ও সুমন শরণখোলা উপজেলার খুড়িয়াখালী ও সগীর বয়াতী চালিতাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। এদের প্রত্যেকের মুক্তিপন হিসাবে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করা হয়েছে ।
অপরদিকে, অপহরণের প্রায় তিন সপ্তাহ পর মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন ১৪ জেলে । প্রত্যেক জেলের মুক্তিপণ হিসেবে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে দস্যুদের। বুধবার (৪ মার্চ) সকালে তাঁরা দুবলার চরে ফিরেছে আসেন। ফিরে আসা ১৪ জন নারকেলবাড়িয়া ও শেলার চরের শুঁটকি ব্যবসাীয় মিজান মালি, শাহিনুর মালি, হাবিব ও রবির মহাজনের জেলে।
মুক্তিপন দিতে না পারায় এখনো দস্যুদের কবলে আলোরকোলের রফিকুল ও খালেক মহাজনের ১২ জেলে জিম্মি রয়েছেন বলে জানাগেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে দুর্ধর্ষ বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনী পূর্ব সুন্দরবনের শেলার চর শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে একটি ট্রলারসহ ৬ জেলেকে এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে অপহরণ করেছিল বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী।
শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্র দুবলার চরের বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় জানান, দুবলার জেলে পল্লীগুলোতে দস্যু আতংক বিরাজ করছে। চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা না পাওয়ায় সংঘবদ্ধ দস্যুরা যে কোনো সময় শুঁটকি পল্লীতে হানা দিতে পারে বলে জেলেরা শঙ্কায় ভুগছেন।
আতংকিত জেলেরা জানান, সুন্দরবনে দস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু হলেও পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি। যে কারণে শরণখোলা রেঞ্জের বনাঞ্চলে এখন দস্যুদের দৌরাত্ম চলছে। তারা জেলে অপহরণসহ মহাজনদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। তাই দ্রুত শরণখোলা রেঞ্জে কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি জানান তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









