নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীকে সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রাইভেট চেম্বারে নিয়ে চিকিৎসা দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক স্যাকমো ডাক্তারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার খুবজিপুর ইউনিয়নের কালাকান্দর গ্রামের মো. রাজীব প্রামাণিক (২১) একটি গুড়ের মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। গত ৮ মার্চ দুপুরের দিকে কাজ করার সময় তার পায়ে গুরুতর কেটে যায়। পরে চিকিৎসার জন্য দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান।
ভুক্তভোগী মো. রাজীব প্রামাণিক জানান, জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত স্যাকমো ডা. মো. আল আমিন তার পায়ের ক্ষত দেখে সেলাই করার কথা বলেন। একপর্যায়ে তিনি জানান, হাসপাতালে অপারেশন করা সম্ভব নয় এবং ভালো চিকিৎসার জন্য তাকে জননী ফার্মেসির প্রাইভেট চেম্বারে যেতে বলেন। পরে তার কথামতো সেখানে গেলে ডা. আল আমিন ডিউটির সময়ই সেখানে গিয়ে তার পায়ে সেলাই করেন এবং ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তিনি ৩ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
রাজীব আরও বলেন, “আমি তো সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে প্রাইভেট চেম্বারে নিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে। এই প্রতারণার সঠিক বিচার চাই, যেন ভবিষ্যতে অন্য কোনো রোগীর সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে।”
এ ঘটনায় ৯ মার্চ গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত স্যাকমো ডা. মো. আল আমিন বলেন, “ঘটনাটি একটি মহল ষড়যন্ত্র করে ঘটিয়েছে। তাদের স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার আশা করছি।”
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমাস আলী বলেন, “ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এটি গুরুতর অপরাধ বিষয়। তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্তে সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









