নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে এক স্বামী পরিত্যক্তা নারী (৩০) গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে উপজেলার নলচিরা ইউনিয়নের কলাপাড়া এলাকায় একটি তরমুজ খেতের পাহারার টংঘরে এ ঘটনা ঘটে। পরে বুধবার (১১ মার্চ) রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় মামলা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার ওই নারী তিন সন্তানের জননী এবং তিনি স্বামী পরিত্যক্তা। এর আগে তার তিনবার বিয়ে হয়েছিল। প্রথম সংসার প্রায় ১৮ বছর স্থায়ী হলেও দ্বিতীয়টি টিকে ছিল তিন বছর এবং সর্বশেষ বিয়েতে প্রায় এক বছর সংসার করেন। বর্তমানে তিনি নতুন করে বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজছিলেন।
এ অবস্থায় কয়েকদিন আগে তিনি পরিচিত এক ব্যক্তিকে তার জন্য উপযুক্ত পাত্র খুঁজে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে ওই ব্যক্তি একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে সম্ভাব্য পাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। যোগাযোগের পর ওই ব্যক্তি বিয়ের কথা বলে দেখা করার প্রস্তাব দেয় এবং জানায় তাকে খালার বাসায় নিয়ে যাবে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই ব্যক্তি আফাজিয়া বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে নারীকে নলচিরা ইউনিয়নের কলাপাড়া এলাকার একটি তরমুজ খেতের পাহারার টংঘরে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা আরও দুজনসহ তিনজন মিলে তাকে জোরপূর্বক আটকে রেখে গণধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের নাম-পরিচয় পুলিশকে জানিয়েছেন। তবে বাকি দুইজনের পরিচয় তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তিনজনকে আসামি করে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। অন্য দুইজনকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্যাতনের শিকার নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বৃহস্পতিবার সকালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









