গাইবান্ধায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির অভিযোগে ৫১ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে পরীক্ষা চলাকালীন জেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১৭ জন নারী পরীক্ষার্থী রয়েছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও পলাশবাড়ী উপজেলার মোট ৪৩টি কেন্দ্রে একযোগে এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্বরত পরিদর্শক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সন্দেহ হলে বিভিন্ন কেন্দ্রে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় পরীক্ষার্থীদের শরীর ও পোশাকের ভেতরে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় মোট ৪৭টি বিশেষ ডিজিটাল ডিভাইস ও বেশ কিছু মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
আটক সংখ্যা: মোট ৫১ জন (৪৯ জন কেন্দ্রের ভেতর থেকে এবং ৩ জন সন্দেহভাজন বহিরাগত)।
জব্দকৃত সরঞ্জাম বিশেষ ব্লুটুথ ডিভাইস, ইয়ার ডিভাইস এবং মোবাইল ফোন।
গাইবান্ধা জেলার ৪৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টি কেন্দ্র থেকে এসব আটক করা হয়েছে। সর্বাধিক আটক হয় গাইবান্ধা সদর উপজেলার ‘কুপতলা আব্দুল কাইয়ূম হাইস্কুল’ কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ ১১ জনকে আটক করা হয়।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষণ কুমার দাস জানান, "পরীক্ষা স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত করতে শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগে ৫১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।" গাইবান্ধা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) হেদায়েতুল ইসলাম জানিয়েছেন, আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একজন কর্মকর্তা বাদী হয়ে এই ঘটনায় মামলা দায়ের করবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এই নিয়োগ পরীক্ষাটি গত ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে জাতীয় শোক দিবসের কারণে তারিখ পিছিয়ে ৯ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। গাইবান্ধা জেলায় ৪ শতাধিক শূন্য পদের বিপরীতে মোট ২৭ হাজার ৬৮৮ জন পরীক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল, যার মধ্যে ২২ হাজার ১৯৭ জন উপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসন আগেই কেন্দ্রগুলোর ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করেছিল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









