শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ তাফালবাড়ি গ্রামের উদ্যমী যুবক মেহেদী হাসান এবার পাঁচ বিঘা জমিতে কলাইয়ের (খেসারি ডাল) চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে বীজ ও সার বাবদ তার খরচ হয়েছে মাত্র ২ হাজার টাকা। ৫ বিঘা জমিতে মোট খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে ৬ মন করে মোট ৩০ মন কলাই উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। যার বাজার মূল্য হবে ৬০ হাজার টাকা।
তুলনামূলক কম বিনিয়োগ ও কম পরিশ্রমে কলাইয়ের ভালো উৎপাদন ও দাম পাওয়া যায় বলে জানান মেহেদী হাসান। এতে চাষীরাও অধিক লাভবান হতে পারে। তার মতে, আমন ধান ওঠার পরেই খালি মাঠে কলাইয়ের বীজ ছড়িয়ে দিলেই হয়। তেমন কোনো সার বীজের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় না পানি সেচের। তুলনামূলক কম পরিশ্রমেই ফসল ঘরে তোলা যায়। ৫ বিঘা জমিতে ১০ হাজার টাকা খরচ করে এবার তার লাভ হবে ৫০ হাজার টাকা বলে জানান তিনি।
তার প্রতিবেশী চাষী হারুন হাওলাদার, রুবেল হাওলাদার ও মুকুল হাওলাদার ও অনুরুপ লাভের আশা করছেন।
হারুন হাওলাদার বলেন, আমনধান ওঠার পর খালি জমিতে কলাই বীজ বিছিয়ে দিয়েছি। জমি চাষের প্রয়োজন হয়না, পানি সেচ দিতে হয়না। তেমন কোন সার বা ঔষধের ও প্রয়োজন হয়না। তূলনামূলক কম পরিশ্রমে এ ফসলটি ঘরে তোলা যায়।
মুকুল হাওলাদার বলেন, কলাই (খেসারি ডাল) একটি পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার। আর এর বাজার দর ও ভালো পাওয়া যায়। তাই আমরা প্রতিবছর জমিতে কলাই চাষ করি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দেবব্রত সরকার জানান, এবার শরণখোলা উপজেলায় কলাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০০০ হেক্টর। কিন্তু চাষ হয়েছে ১০৫০ হেক্টরে। এতে ১২৬০ মেট্রিক টন খেসারি ডাল উৎপাদন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গত বছর শরণখোলায় কলাইয়ের চাষ হয়েছিল ৩৫০০ হেক্টর জমিতে। এবার তা নেমে এসেছে ১০৫০ হেক্টরে। কম পরিশ্রমে অধিক লাভের পরেও এ ফসল চাষের হার কমে যাওয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান, কলাই চাষের উপযুক্ত জমিতে চাষিরা এবার বোরো ধানের চাষ করেছে। বোরো ধানের চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়ায় কলাইয়ের চাষ নেমে এসেছে তিন ভাগের এক ভাগে। বোরো চাষে অনেক চাষীর ভাগ্যোন্নয়ন হওয়ায় অন্যান্য চাষীরাও বোরো চাষে মনোযোগী হয়েছে। তাই কলাইসহ অন্যান্য রবিশস্য চাষে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
উপজেলার বেশকিছু জমি পতিত থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন শরণখোলার চাষিরা এক ফসলের উপরে নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু সিডরের পর সরকারি ও বেসরকারি নানা উদ্যোগ ও প্রণোদনার কারণে তারা নতুন নতুন চাষে উৎসাহিত হচ্ছে। এখানে কোন কোন জমিতে এখন তিন ফসল ও চাষ হচ্ছে।
মিষ্টি পানির অভাবে এখানে এখনো অনেক জমি পতিত থাকে। তবে ফসলি জমি সংলগ্ন খাল গুলো খননের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে কিছু খাল খনন শুরু হয়েছে। চাষীদের চাহিদা মত খাল খনন করা গেলে শরণখোলার প্রত্যেক ইঞ্চি জমিতে নতুন নতুন ফসল ফলানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









