জামালপুরের বকশীগঞ্জে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দরিদ্র পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) আফিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে।
ভিজিএফের বেশিরভাগ বস্তায় চাল কম সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে বস্তায় চাল কম থাকায় ভিজিএফ কার্ডধারীদেরও কম চাল দিতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের। ফলে চেয়ারম্যান ও ভিজিএফ কার্ডধারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার বকশীগঞ্জ উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে ৩৭ হাজার ৩০৬ জনের অনুকূলে ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) কর্মসূচির চাল বরাদ্দ দেয়। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে জনপ্রতি কার্ডধারী সুবিধাভোগীদের ৮ থেকে ৯ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। ভিজিএফের চাল কম দেওয়া নিয়ে অনেক জায়গায় উপকারভোগীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের।
চাল কম দেওয়া নিয়ে বাট্টাজোড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লিটন আকন্দ এদিনকে জানান, খাদ্যগুদাম থেকে ৩০ কেজি ওজনের প্রতিটি বস্তায় ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত চাল কম দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বস্তায় চাল কম থাকায় এর খেসারত আমাদের দিতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ইউপি চেয়ারম্যান জানান, বরাদ্দের চালের বেশিরভাগ বস্তায় প্রায় ৩ কেজি করে চাল কম থাকে। খাদ্যগুদাম থেকে এই বস্তাগুলো আমাদের দেওয়া হয়। ফলে আমাদেরও ১০ কেজির স্থলে বাধ্য হয়ে কিছুটা কম চাল বিতরণ করতে হচ্ছে। এ কারণে উপকারভোগীরাও ক্ষুব্ধ হচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, আমরা ১০ কেজির স্থলে ৮ থেকে ৯ কেজি পর্যন্ত চাল পাচ্ছি। ১০ কেজি চাইলে চেয়ারম্যানরা বলেন, গুদাম থেকে কম এসেছে, আমরা কোথা থেকে দেব।
চাল নিয়ে এমন অনিয়মের ঘটনায় খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানরা।
চালের বস্তায় চাল কম থাকার বিষয়ে জানতে উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা আফিয়া সুলতানাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ছাইদুর রহমান এ বিষয়ে পাশ কাটিয়ে বলেন, আমরা যথাযথভাবেই চাল চেয়ারম্যানদের কাছে দিয়েছি। চাল কম দেওয়ার সুযোগ নেই।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









