রাস্তা বন্ধ করে ২৫ টি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠেছে একটি পরিবারের বিরুদ্ধে। কাজটি করেছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র নার্স হোসনে আরা খাতুন। এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়নের রৌমারী গ্রামে।
পুলিশ, স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগ থেকে পর্যায়ক্রমে জমির প্লট কিনে বসবাস করে আসছে ২৫টি পরিবার। জমি বিক্রেতা জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার জন্য সুন্দর একটা রাস্তাও দিয়েছিল। রাস্তা দেখে জমি কেনেন তারা। কিন্তু এখন রাস্তা আটকে দেওয়ায় ঠিকভাবে যাতায়াত করতে পারছে না পরিবারগুলো। বিকল্প রাস্তা না থাকায় বিপাকে রয়েছেন তারা। এ বিষয়ে একাধিকবার শালিসী বৈঠকে বসলেও কোন সমাধান হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র নার্স হোসেনে আরা খাতুন গত কয়েক বছর আগে একই গ্রামের সাবেক ব্যাংকার আতাউর রহমানের কাছ থেকে ১৭ শতক জমির মধ্যে ১৫ শতক জমি ক্রয় করেন। বাকী দুই শতক জমি রাস্তার জন্য রাখা হয়। সম্প্রতি হোসনে আরা খাতুন ৪ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করছেন। ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে পূর্বের রাস্তাটি বন্ধ করে দেন তিনি। এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো রৌমারী থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অবরুদ্ধ এসব পরিবারের সদস্যরা বলেন, ব্যবহৃত রাস্তাটি জনসাধারণের চলাচলে উম্মুক্ত রাখার শর্তে ২০১৩ সালে এক শালিসী বৈঠকের মাধ্যমে নন-জুডিশিয়াল ষ্টাম্পে হোসনে আরার স্বামী নুরুন্নবী (সজিব) ৩৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়। হঠাৎ করে তারা তাদের জমি দাবি করে জোরপূর্বক রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। এ কারণে চলাচল করতে পারছি না আমরা।
প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন থেকে আমরা এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে আসছি। হঠাৎ কোন কারণ ছাড়াই আমাদের এই রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা বর্তমানে বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি।
স্থানীয় বাসিন্দা পর্দারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়দা খাতুন বলেন, এক সপ্তাহ ধরে বাসা থেকে বের হতে পারছিনা। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবী রাস্তাটি অবমুক্ত করে দেওয়া হোক।
১নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রবিউল করিম বলেন, চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া একটি অমানবিক কাজ । আমি হোসনে আরাকে নিয়ে কয়েকবার আলোচনা করেছি, কিন্তু রাস্তাটি ছাড়ছেন না তারা। এমনকি এলাকার মাতব্বরসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদেরকেও সম্মান করেননি তিনি।
রৌমারী থানা অফিসার ইনচার্জ কাওসার আলী জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ব্যবস্থা গ্রহণের নিদের্শ দিয়েছিলেন। তা তদন্তপূর্বক ঐ নারীকে বলা হয়েছে, এলাকাবাসীকে নিয়ে সুষ্ঠ সমাধানে আসতে।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিন জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। রৌমারী থানা পুলিশকে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









