পিরোজপুরের নেছারাবাদে ঈদের ছুটির সুযোগে সরকারি গোডাউনের তালা ভেঙে পুরনো মেশিনের যন্ত্রাংশ বিক্রি করলেন অসীম কুমার দাস (৪৫) নামের একজন শিক্ষক। তিনি উপজেলার ৪৯নং ব্রাহ্মণকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রবিবার (২২ মার্চ) সকালে উপজেলার কৃষি অফিসের গোডাউন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, উপজেলার বন বিভাগের অফিস সংলগ্ন সরকারি কৃষি অফিসের গোডাউন থেকে পুরনো পাওয়ার পাম্প ও ট্রাক্টরের যন্ত্রাংশ বিক্রি করার জন্য ভাঙ্গারি বিক্রেতাকে দোকান থেকে ডেকে এনে বিক্রি করছিলেন শিক্ষক অসীম কুমার দাস। তখন বন বিভাগের বাগান মালী সেলিম হোসেন বিক্রিরত অবস্থায় দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরবর্তীতে নেছারাবাদ কৃষি অফিসে কর্মরত রথীন কুমার ঘরামীর হস্তক্ষেপে বিক্রিকৃত মাল উদ্ধার করে পুনরায় গোডাউনে রাখা হয়।
মালামাল ক্রয়কৃত ভাঙ্গারি দোকানদার আলী হোসেন বলেন, অসীম স্যার আমার দোকানে গিয়ে দোকান বন্ধ পায়। তাই দোকানের সাটারে উল্লেখিত আমার মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়ে কিছু পুরানো মালামাল বিক্রি করবে বলে জানায়। আমি সকালে ওই মালামাল কিনতে গিয়ে দেখি সরকারি গোডাউনের মালামাল। প্রথমে কিনতে রাজি না হলেও অসীম স্যার বলেছে, অফিসার সাহেবেরা বিক্রি করতে বলেছে। তাদেরকে কিছু টাকা দিতে হবে! তাই বুঝতে পারি ওটা চোরা মাল ছিল। স্থানীয়রা দেখে ফেলায় মালামাল ক্রয় করে আনতে পারিনি। ওখানে প্রায় দুইশ কেজি ওজনের পুরনো পাওয়ার টিলার ও পাওয়ার পাম্পের যন্ত্রাংশ ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী নেছারাবাদ বন বিভাগের বাগান মালী সেলিম হোসেন জানান, সকালে বাগানে পানি দিচ্ছিলাম। এমন সময় গোডাউনের সামনে পুরনো পাওয়ার টিলার ও পাওয়ার পাম্পের যন্ত্রাংশ ভাঙ্গারি দোকানদারের কাছে ডিজিটাল মেশিনের মাধ্যমে ওজন দিচ্ছিলেন দেখে কাছে যাই। কাছে গিয়ে দেখি অসীম স্যার ওই যন্ত্রাংশগুলো বিক্রি করছে। এবং গোডাউনের তালা ভাঙ্গা। ঈদুল ফিতরের ছুটির সুযোগ নিয়ে সরকারি মালামাল এভাবে বিক্রি করা তার ঠিক হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক অসীম কুমার দাস জানান, আমার বাসার সামনেই কৃষি অফিসের গোডাউন। এটা দীর্ঘদিন পর্যন্ত অরক্ষিত অবস্থায় আছে। ওখান থেকে পাওয়ার পাম্পের কয়েকটি যন্ত্রাংশ (২০ কেজির মত) বিক্রি করতে চেয়েছিলাম। এটা আমার ভুল হয়েছে। তালা ভাঙার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, গোডাউনের তালা আমি ভাঙ্গেনি।
নেছারাবাদ কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, আমি ঈদের ছুটি উপলক্ষে ছুটিতে আছি। বিষয়টি জানার পরে আমাদের সহকর্মী রথীন কুমার গোড়ামীকে সরেজমিনে পাঠিয়েছিলাম। তিনি মালামাল উদ্ধার করে পুনরায় গোডাউনের তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি ছুটি শেষে কর্মস্থলে এসে এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নেছারাবাদ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খোন্দকার জসিম আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









