স্বচ্ছ পানির নদী, সাদা পাথর আর পাহাড়ঘেরা মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরে ভিড় জমাচ্ছেন হাজারো পর্যটক। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসছেন এখানে। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে কেউ নৌকায় ঘুরছেন, কেউ নদীর ঠান্ডা পানিতে নামছেন, আবার কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সোমবার (২৩ মার্চ) ভিড় আরও বেড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটক আসায় তাদের ব্যবসায় চাঙাভাব দেখা দিয়েছে। নৌকা ভাড়া, খাবারের দোকান, পার্কিংসহ সংশ্লিষ্ট খাতে আয় বেড়েছে কয়েকগুণ। তবে কিছুটা বিশৃঙ্খলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষকরে গাড়ি পার্কিং ও নৌকা ভাড়া নিয়ে বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল জোরদারের পাশাপাশি দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দিচ্ছেন।
একাধিক পর্যটক জানান, সাদাপাথরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাদের মুগ্ধ করেছে। তবে পরিবেশ রক্ষায় আরও সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানান তারা।
এবারের ঈদের ছুটিতে সিলেটে ১০ লাখ পর্যটকদের সমাগমের আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রত্যাশা অনুযায়ী পর্যটকদের আগমন ঘটলে প্রায় শত কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছেন এই খাতের সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, সিলেটের সব হোটেল ও রিসোর্টে বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে পর্যটন খাত আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা তাদের।

রবিবার (২২ মার্চ) সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় রয়েছে সেখানে। পার্কিং থেকে শুরু করে স্পটের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী সকলেই উৎসবের আমেজে রয়েছেন। পর্যটকদের এমন উপস্থিতিতে সকলেই আনন্দ। পাশাপাশি পর্যটকরাও আনন্দের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন এখানে।
ঢাকা থেকে আসা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সাদাপথরে ঘুরতে এসে খুব আনন্দিত। অনেকদিন ধরেই অপেক্ষা করছিলাম আসার। ঈদের ছুটিটা সুবিধামত পাওয়ায় চলে আসছি।
ব্যাংকার সানজিদা কবীর জানান, পরিবারের সঙ্গে তিনি ঈদের পরদিন সকালে সিলেটে এসেছেন। আজ সাদাপাথরে ঘুরতে এসেছেন। এরপর রাতারগুল, জাফলং এবং সিলেটের চা-বাগান ঘুরে দেখবেন বলে তিনি জানান।
পুরান ঢাকার কাপড় ব্যবসায়ী রাজিব জানান, সাদাপাথরের পরিবেশ দেখে তিনি মুগ্ধ। বেশ উপভোগ করেছেন। তবে বাড়তি নৌকা ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উৎপল কুমার চৌধুরী।
তিনি এদিনকে জানান, ঈদে সিলেটের সবগুলো স্পটে পর্যটক আসছেন। তাদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ টহল জোরদার, সাদা পোশাকে নজরদারি রয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযোগ বক্স স্থাপনসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিলেট হোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউস ওনার্স গ্রুপের সাবেক সভাপতি সুমাত নূরী চৌধুরী জুয়েল বলেন, ঈদকে ঘিরে সিলেটে পর্যটকদের সমাগম ঘটেছে ঠিকই; তবে প্রত্যাশার চেয়ে কম। তার দাবি, পর্যটকরা সিলেট এলেও তারা থাকছেন না। বেশিরভাগ ঘুরাঘুরির পর চলে যাচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ঈদের ছুটিতে ভ্রমণে আসা পর্যটকের কাছ থেকে অতিরিক্ত হোটেল ভাড়া আদায় এবং রেস্তোরাঁগুলোতে খাবারের দাম যেন বাড়ানো না হয়, সেসব তদারকির জন্য একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নামানো হবে। পর্যটক হয়রানি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









