বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে জাপানের উন্নত জাতের মিষ্টি আলু ‘কোকেই-১৪’ চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। চরাঞ্চলে বালুমিশ্রিত পলি মাটিতে এই বিদেশি জাতের আলুর বাম্পার ফলন ও নিশ্চিত বাজার সুবিধা সারিয়াকান্দির কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ ও ফলন উভয় ক্ষেত্রেই রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫ বছর আগে জাপানের খ্যাতনামা কৃষি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘নারুতো জাপান কোম্পানি’ সারিয়াকান্দির বিভিন্ন এলাকায় মাটি ও জলবায়ু পরীক্ষা করে। পরবর্তীতে কৃষি অফিসের সহযোগিতায় উপজেলার নারচী ইউনিয়নের চর গোদাগাড়ী এলাকায় কৃষকদের সাথে আলোচনা করে তারা ‘কোকেই-১৪’ জাতের মিষ্টি আলু চাষের প্রস্তাব দেয়। কৃষি কর্মকর্তাদের নিবিড় তত্ত্বাবধান ও পরামর্শে কৃষকরা এই আধুনিক চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ হন।
চাষিরা জানান, তারা সরাসরি কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এই আলু চাষ করছেন। এতে কৃষকদের পুঁজি ও বাজারজাতকরণ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয় না। কোম্পানি থেকে শুরুতেই জমি প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় সার এবং পরবর্তীতে উন্নত মানের আলুর চারা সরবরাহ করা হয়।

চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানা যায়, জমি প্রস্তুতের সময় ১৮ ইঞ্চি পরপর মাটি উঁচু করে ‘কাফ’ বা বেড তৈরি করা হয়। প্রতিটি বেডে ৬ ইঞ্চি দূরত্ব বজায় রেখে আলুর চারা রোপণ করা হয়। সাধারণত কার্তিক মাসে চারা রোপণ করলে পৌষ বা মাঘের প্রথমার্ধেই ফসল পূর্ণ পরিপক্বতা পায় এবং সংগ্রহের উপযোগী হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর এ অঞ্চলে ৪৮০ হেক্টর জমিতে এই মিষ্টি আলুর চাষ হয়েছিল। চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা ৪৮০ হেক্টর ধরা হলেও কৃষকদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে চাষ হয়েছে ৪৮৫ হেক্টর জমিতে। হেক্টর প্রতি গড় ফলন হয়েছে ১৮ থেকে ২০ মেট্রিকটন, যা দেশি জাতের তুলনায় অনেক বেশি।
এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় দিক হলো নিশ্চিত বাজার। আলু উত্তোলনের পর কৃষকদের হাটে গিয়ে ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। সরাসরি কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছে তারা আলু বিক্রি করেন। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য না থাকায় কৃষকরা ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন।
নারচী ইউনিয়নের চর গোদাগাড়ী এলাকার কৃষক ফল্টু মোল্ল্যা জানান, আগে এসব জমিতে অন্য ফসল করে আশানুরূপ লাভ হতো না। কিন্তু জাপানি পদ্ধতিতে মিষ্টি আলু চাষ করে তারা এখন লাভের মুখ দেখছেন। অনেক বেকার যুবকও এখন এই আধুনিক চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, কোকেই-১৪ জাতের এই মিষ্টি আলু বিদেশে রপ্তানিযোগ্য। এর গুণগত মান ও পুষ্টিগুণ অনেক বেশি হওয়ায় এটি আন্তর্জাতিক বাজারেও চাহিদাসম্পন্ন। স্থানীয় কৃষকদের এই সাফল্য আগামীতে চরাঞ্চলের আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









