পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় এক দিনমজুরের ঘরে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথিত পরকীয়া প্রেমিককে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত যুবক ও তার মাকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মধ্য আউরিয়া গ্রামের ৬নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, স্বরূপকাঠী পৌরসভার জগন্নাথকাঠি গ্রামের বাসিন্দা আসলাম হোসেনের ছেলে হাসিবের সঙ্গে দিনমজুর মো. রানা মিয়ার স্ত্রী শম্পা বেগমের দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ছিল বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ছিল। বিষয়টি নিয়ে পূর্বে স্থানীয় ইউপি সদস্যও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছিলেন। দুপুর ১২ টার দিকে ওই যুবক পরকীয়া প্রেমিকা স্বামীর অনুপস্থিতে বাড়িতে গেলে স্বামী দেখে ফেলে ঘরের দরজা আটকে দেয়। পরে স্থানীয়দের জানালে গ্রামবাসীর রোষানলে পরে ওই প্রেমিক যুগল।
ভুক্তভোগী স্বামী মো. রানা মিয়া জানান, ঘটনার দিন সকালে তিনি কাজে বের হলে তার অনুপস্থিতিতে হাসিব তার ঘরে আসে। পরে খবর পেয়ে বাড়িতে ফিরে গিয়ে ঘরে ঢুকে তিনি স্ত্রী ও হাসিবকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন।
তবে শম্পা বেগম এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হাসিবের সঙ্গে তার কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়। সেই সূত্রে তিনি মাঝে মাঝে বাড়িতে আসতেন, তবে তাদের মধ্যে কোনো অনৈতিক সম্পর্ক নেই।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় এক বছর ধরে ওই যুবককে রানার বাড়িতে যাতায়াত করতে দেখা গেছে এবং স্থানীয় বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের একসঙ্গে ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত।
ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইউনুস হোসেন বলেন, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আলোচনায় ছিল। ঘটনার দিন রানার অনুপস্থিতিতে ওই যুবক তার ঘরে আসেন এবং পরে রানা এসে তাদের একত্রে দেখতে পান। বর্তমানে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পর স্থানীয় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত যুবক ও ওই নারীর বিয়ের দাবি তুলেছেন বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ বিষয়ে কোন লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









