পিরোজপুরের নেছারাবাদে সরকারি গোডাউনের তালা ভেঙে পুরোনো মেশিনের যন্ত্রাংশ বিক্রির অভিযোগে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খোন্দকার জসিম আহমেদ অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে এ নোটিশ প্রদান করেন।
অভিযুক্ত অসীম কুমার দাস (৪৫) উপজেলার ৪৯ নম্বর ব্রাহ্মণকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
এরআগে, গত ২২ মার্চ সকালে উপজেলার কৃষি অফিস সংলগ্ন সরকারি গোডাউনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক অসীম কুমার দাস এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীকে ডেকে এনে গোডাউনে সংরক্ষিত পুরোনো পাওয়ার পাম্প ও ট্রাক্টরের যন্ত্রাংশ বিক্রির চেষ্টা করেন।
এ সময় নেছারাবাদ বন বিভাগের বাগান মালি সেলিম হোসেন বিষয়টি দেখে সংশ্লিষ্টদের জানান। পরে কৃষি অফিসের কর্মচারী রথীন কুমার ঘরামীর হস্তক্ষেপে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা যন্ত্রাংশ উদ্ধার করে পুনরায় গোডাউনে রাখা হয়।
ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী আলী হোসেন জানান, শিক্ষক অসীম কুমার দাস তার দোকান বন্ধ পেয়ে মোবাইলে যোগাযোগ করে কিছু পুরোনো মালামাল বিক্রির কথা বলেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বুঝতে পারেন সেগুলো সরকারি মালামাল। প্রথমে কিনতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে বিভিন্ন কথা বলে রাজি করানোর চেষ্টা করা হয়। তবে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তিনি মালামাল নিতে পারেননি।
প্রত্যক্ষদর্শী সেলিম হোসেন জানান, তিনি সকালে বাগানে পানি দেওয়ার সময় দেখেন গোডাউনের সামনে যন্ত্রাংশ ওজন করা হচ্ছে এবং তালা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানান।
অভিযোগের বিষয়ে অসীম কুমার দাস জানান, গোডাউনটি দীর্ঘদিন অরক্ষিত অবস্থায় ছিল। সেখান থেকে কিছু যন্ত্রাংশ বিক্রি করতে চেয়েছিলেন, যা তার ভুল হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, গোডাউনের তালা তিনি ভাঙেননি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান জানান, এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খোন্দকার জসিম আহমেদ বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তার লিখিত জবাব পাওয়ার পর তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









