বাগেরহাটের শরণখোলায় কিশোরী রিয়া মনিকে গলা কেটে হত্যা মামলায় আরও দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে উপজেলার কদমতলা ও রাজাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মিজান (২৩) ও তুহিন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয় বলে শরণখোলা থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
এর আগে রফিকুল ইসলাম রুবেল (৪০) নামে এক কসমেটিকস ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এ মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিকটিম রিয়া মনির মোবাইল কল লিস্টের সূত্র ধরেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে তাদের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে কিশোরী রিয়া মনি হত্যা রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বিপ্লব কুমার দাবি করেছেন।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামিনুল হক এদিনকে জানান, ধৃত আসামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই কিশোরী রিয়া মনি হত্যার রহস্য উন্মোচন এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
২৪ মার্চ সকালে উপজেলার রাজৈর গ্রামের মাওলানা এ কে এম ইউসুফ সাহেবের বাড়ির কবরস্থানসংলগ্ন মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করতে এসে মুসল্লিরা রাস্তায় এক কিশোরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।
রিয়া মনির নানি খোন্তাকাটা গ্রামের হালিমা বেগম এদিনকে জানান, রিয়া মনির বাবা আলী আজিমের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। তার মা হনুফা বেগম চট্টগ্রামে বসবাস করেন। ছোটবেলা থেকেই রিয়া মনি তার কাছে থাকত।
২৩ মার্চ বিকেলে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। রাতে বাড়িতে ফিরে না আসায় সকালে নাতিকে খুঁজতে তিনি রাজৈর খেয়াঘাট এলাকায় যান। সেখানে মানুষের কাছে একটি মেয়ের লাশ পড়ে থাকার খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার নাতনি রিয়া মনির গলা কাটা লাশ দেখতে পান।
এ ঘটনায় ২৫ মার্চ সকালে নিহত রিয়া মনির বাবা আলী আজিম শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, নানির কাছে কিছুটা অনাদর-অবহেলায় বেড়ে ওঠায় কিশোরী রিয়া মনি সহজেই অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে। প্রভাবশালী একটি মহল তাকে দিয়ে মাদক ব্যবসা ও হানিট্র্যাপের মতো কাজে ব্যবহার করত। অনৈতিক কোনো কাজের বিরোধ বা গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে তাদের ধারণা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









