নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক ছাদের নিচে মিলিত হয়েছেন শতাধিক স্বাবলম্বী নারী উদ্যোক্তা, যাদের হাতে গড়ে উঠছে স্বপ্ন, আত্মনির্ভরতা আর সম্ভাবনার নতুন গল্প। কেউ হোমমেড কেক তৈরি করেন, কেউ মেহেদী শিল্পী, কেউ অনলাইন কাপড় ব্যবসায়ী, আবার পেইন্টিং তো কেউ আবার কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ডিজাইনার কিংবা হ্যান্ডমেড পণ্যের নির্মাতা। ভিন্ন ভিন্ন উদ্যোগে কাজ করলেও তাদের সবার লক্ষ্য এক নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং সমাজে অবদান রাখা।
এই বৈচিত্র্যময় শতাধিক নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘সৈয়দপুর ওমেন এন্টারপ্রেনার কমিউনিটি (সোয়াক)। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সংগঠনটির ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষনার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এর আগে ২৬ মার্চ রাতে সৈয়দপুর রেলওয়ে মুর্তজা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ওই নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে আয়োজন করা হয় এই প্রাণবন্ত মিলনমেলার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক এম আর আলম ঝন্টু। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সংগীত শিল্পী ও সংগঠক শেখ রোবায়তুর রহমান এবং সাংবাদিক নওশাদ আনসারী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শাহবাজ নিপা এবং পুরো উদ্যোগটির স্বপ্নদ্রষ্টা নারী উদ্যোক্তা রোজিটি নাজনীন চৈতী।
মিলনমেলায় অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে কেক ও হোমমেড ফুড নিয়ে কাজ করা লুবনা (লুবনা কেক হ্যাভেন), নওশিন তারান্নাম, পাখি, জলি আশরাফী (পারফেক্ট কেক কর্ণার), মিমি, রিদিকা, এসবি ড্রিম কেকসহ অনেকে ছিলেন। মেহেদী ও বিউটি সেবায় সোহানী মেহেদী, নাফিসা আনসারী (মেহেদী বাই নাফিসা), ইফতি, অনলাইন কাপড় ও ফ্যাশন ব্যবসায় সামিয়া, ময়না কালেকশন, ফারহানা কাপড়, তাসনিয়া কাজ করছেন। এছাড়া হ্যান্ডমেড, ডিজাইনিং ও ক্রাফটস খাতে ওয়াহিদা আক্তার (ডিজাইনিং মেকার), ইকরা (আরফা হ্যান্ডিক্রাফট), নুসরাত (ড্যাজি ক্যান্ডেল), আসমাউল হুসনা (হ্যান্ডমেড চুড়ি ও কসমেটিকস), নিলু (হ্যান্ডমেড গ্লামার), কল্পনা আক্তার কাকুলিসহ আরও অনেকেই অংশ নেন। কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও সৃজনশীল খাতে আনুশকা, মুসকান, তাসনিয়া এবং পেইন্টিং আর্টিস্ট সুরখাবসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটিও গঠন করা হয়। এতে শাহবাজ নিপাকে সভাপতি এবং তাসনিম কলি মিমকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান নাজনীন চৈতী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফশা ইভা, কোষাধ্যক্ষ নাফিসা আনসারী, সাংগঠনিক সম্পাদক নুসরাত এবং প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান সামিয়া আহমেদ।
আয়োজকরা জানান, সৈয়দপুরে নারীরা দিন দিন বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই ঘরে বসেই সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তবে এতদিন তারা বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছিলেন। এই ‘সোয়াক’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সব নারী উদ্যোক্তাকে একত্রিত করে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। ইতিমধ্যে ৮০ জনের বেশি উদ্যোক্তা যুক্ত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তা লুবনা, রিদিকা, সামিয়া, আনুশকা, নাফিসা, পাখিসহ অন্যান্য উদ্যোক্তারা মনে করেন একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একসাথে কাজ করলে তাদের পথচলা আরও সহজ ও শক্তিশালী হবে। তারা শুধু নিজেরা স্বাবলম্বী হতে চান না, বরং সমাজ ও দেশের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে চান।
সব মিলিয়ে, সৈয়দপুরে নারী উদ্যোক্তাদের এই মিলনমেলা শুধু একটি আয়োজন নয়, বরং নারীর আত্মনির্ভরতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ যেখানে স্বপ্ন, সাহস আর সম্মিলিত উদ্যোগ মিলেই তৈরি হচ্ছে আগামীর নতুন সম্ভাবনা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









