পর্যটন নগরী কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা। ২৭ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টার বিশেষ চিরুনি অভিযানে ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। অভিযানে মোট ১৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৯ জন ডাকাত এবং ৬ জন ছিনতাইকারী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) ভোরে সুগন্ধা কটেজ জোন এলাকায় এক পর্যটককে ছুরি ও হাতুড়ি দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ছিনতাইয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামে থানা পুলিশ।
এই ঘটনায় সরাসরি জড়িত দুই ছিনতাইকারী খায়রুল আমিন ওরফে মুন্না (২৯) ও আব্দুর শুক্কুর (২৪)-কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত খায়রুল আমিনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, অস্ত্র, হত্যাচেষ্টা ও পুলিশের ওপর হামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তার নামে ২০১৭ সাল থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত অন্তত ১৮টির বেশি মামলা নথিভুক্ত আছে। অন্যদিকে আব্দুর শুক্কুরের বিরুদ্ধেও একাধিক আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধের মামলা রয়েছে।
এছাড়া সুগন্ধা সৈকত এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আরও ৭ জন ডাকাতকে আটক করা হয় এবং শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে ৬ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানটি পরিচালিত হয় কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ছমি উদ্দিনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওসি নিজেই বিশেষ কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতৃত্ব দেন।
ওসি বলেন, “কক্সবাজার একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরী। এখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে আমরা মূল হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে খায়রুল আমিন, আব্দুর শুক্কুর, মো. আরমান, জাহেদুল ইসলাম জাহেদ, মাহাবুব আলম, মনোয়ার হোসেন, রাজু, রশিদ মিয়া এবং রাসেল উদ্দিন সোহেল রানাসহ মোট ৯ জন ডাকাত দলের সদস্য। এছাড়া পৃথকভাবে ৬ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই সফল অভিযানের মাধ্যমে কক্সবাজারে অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে এমন ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ এবং গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। এতে পর্যটকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









