শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

রাজশাহীতে গরমে শীতবস্ত্র বিতরণ!

প্রকাশিত: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৭:১১ পিএম

আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৭:১১ পিএম

রাজশাহীতে গরমে শীতবস্ত্র বিতরণ!

রাজশাহীর পবা উপজেলায় তীব্র গরমের মধ্যে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণের ঘটনা নিয়ে উপকারভোগী ও সচেতন মহলে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে চৈত্র মাসের প্রখর রোদ উপেক্ষা করে পবা উপজেলা মডেল মসজিদের পার্কিং এলাকায় কম্বল বিতরণ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবা উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মধ্যে এক একটি কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। বড়গাছি ও নওহাটা পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত মসজিদের ধর্মীয় দায়িত্বশীলদেরও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বড়গাছিতে ২০৮ জন এবং নওহাটা পৌরসভার ২৩0 জনের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার মুসলেউদ্দিন বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের কারণে এবং পবা উপজেলা থেকে কম্বল পেতে দেরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বিতরণ সম্ভব হয়নি। আমাদের কোনো গাফিলতি ছিল না, বরং উপজেলা পর্যায় থেকেই দেরি হয়েছে। সেজন্য আজ আমরা বিতরণ করছি।”

তবে উপকারভোগীদের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা গেছে। কয়েকজন ইমাম ও মুয়াজ্জিন জানান, গরমের সময় কম্বল তাদের কোনো কাজে আসছে না। নওহাটা পৌরসভার বায়াপাড়া এলাকার এক মসজিদের ইমাম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমাদের ঈদের উপহার দেওয়া হবে বলে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু এসে দেখি কম্বল দেওয়া হচ্ছে। এই গরমে কম্বল দিয়ে আমরা কী করব? শীতের সময় পেলে বেশি উপকার হতো।”

বড়গাছি এলাকার ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, “এটি একটি চরম অব্যবস্থাপনা। আমাদের ঈদের উপহার দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে এসে এই গরমের সময়ে কম্বল দেওয়া হচ্ছে। আমরা এই তীব্র গরমের ভিতরে কম্বল নিয়ে কি করব?”

একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন পুঠিয়াপাড়া এলাকার মুয়াজ্জিন কবির হোসেন। তিনি বলেন, “শীতের সময় কম্বল না দিয়ে এখন দেওয়া হচ্ছে। এগুলো তো এখন ব্যবহার করা সম্ভব না। বাধ্য হয়ে তুলে রাখতে হবে। এই দেরির দায় কে নেবে?”

অন্যান্য ইমাম ও মুয়াজ্জিনরাও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, শীতের সময়ে কম্বল না পেলে গরমের সময়ে তা কোন কাজে আসবে না। শীতের কাপড় কি গরমে পরা যায়? এটি শীতের সময়ে দিলে বেশি ভালো হতো। এখন এই কম্বল তাদের কোনো কাজে আসবে না।

পবা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলামকে এ বিষয়ে জানতে তার কার্যালয়ে গিয়ে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “পবা ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে আগেই ১,২৫০টি কম্বল সরবরাহ করা হয়েছে। তারা নিজস্ব তালিকা অনুযায়ী বিতরণ করেছে। যদি বিতরণে দেরি হয়ে থাকে, সেটি তাদের ব্যবস্থাপনার বিষয়। আমরা তাদেরকে অনেক আগেই কম্বল দিয়েছি।”

টিআর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.