লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার পথে দালালদের খপ্পরে পড়ে সুনামগঞ্জের ১২ যুবকের প্রাণহানি ঘটে। এই ঘটনায় সুনামগঞ্জে শোকের মাতম নেমে আসে। নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ তুলে দালালের গাফিলতির কারনেই এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। তাই দালালের বিরুদ্ধে এবার একশনে গেলেন নিহতের পরিবার। ভুমধ্যসাগরে মারা যাওয়ার ঘটনায় চার মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জের দিরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার রাত ১২টার দিকে এ মামলা করা হয়। নিহতদের একজন দিরাই উপজেলার বাসুরী গ্রামের সোহানুর রহমানের বাবা ছালিকুর রহমান বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী মামলাটি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে আসামিদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
গত শনিবার লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু ঘটে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার তিন উপজেলার ১২ জন রয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের বরাতে জানা যায়, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় তীব্র খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন যাত্রীরা। পরবর্তীতে অনেকে মারা গেলে পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ৬ জন, দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন এবং জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ জন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্বজনদের অভিযোগ, দিরাই উপজেলার একটি চক্রের সঙ্গে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করে তারা লিবিয়া হয়ে গ্রিস যাওয়ার উদ্যোগ নেন। চুক্তি অনুযায়ী নিরাপদ ও বড় নৌযানে নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেওয়া হয়, যা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









