পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় মো. রফিকুল ইসলাম (৪০) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্য মো. শামিম (১৫) ও সাকিলকে (১৪) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে তাদের সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে পিরোজপুর জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেয়।
চট্টগ্রাম র্যাব-৭ -এর সহযোগিতায় চট্টগ্রাম বন্দর থানার চৌধুরী পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শামিম উপজেলার কচুবাড়িয়া এলাকার সেরাজ মিয়ার ছেলে এবং সাকিল একই এলাকার জসিম খানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতরের রাতে কচুবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ও এক সন্তানের জনক রফিকুল ইসলামের বাড়ির সামনে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা পটকা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এতে রফিকুলের আড়াই বছরের সন্তান ভয়ে চিৎকার শুরু করলে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা লোহার রড, হাতুড়ি ও লাঠিসোটা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৩ মার্চ তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার ২৬ মার্চ মঠবাড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঠবাড়িয়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শেখ হিলাল উদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের সহযোগিতায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









