বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় কলেজছাত্র সাইদুল ইসলাম সজিব (২৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনপদ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকে দিনভর মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচির মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। নিহতের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
সকাল ১০টার দিকে রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজার এলাকায় বাকেরগঞ্জ-বরগুনা আঞ্চলিক সড়কে মানববন্ধন শুরু হয়। এতে শত শত মানুষ সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। পরে বিক্ষোভকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে সাময়িক অবরোধ সৃষ্টি করলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘খুনিদের গ্রেপ্তার কর, ফাঁসি চাই’, ‘সজিব হত্যার বিচার চাই’—এমন নানা স্লোগানে প্রকম্পিত করে তোলেন পুরো এলাকা। পরে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে কালিগঞ্জ বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৮ মার্চ জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী মিলন খানের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে সজিবকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হলেও এখনো মূল আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি। তারা দাবি করেন, ঘটনার পর থেকে আসামিপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে আইনি প্রক্রিয়াকে ধীরগতির করে তুলছে এবং তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, নিহতের পরিবারকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করতে উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক চাপে দিন কাটাচ্ছে। তারা প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীরা স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন। প্রয়োজনে বাকেরগঞ্জ থানা ঘেরাও, লাগাতার সড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানান তারা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ সকাল ৯টার দিকে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় সজিবসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় সজিবকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সজিবের পিতা আবুল হোসেন খান এ ঘটনায় ৮ জনকে আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সজিব বরিশাল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং চলতি বছর অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার কে এম সোহেল রানা বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজন আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার দাবি এখন এলাকাবাসীর একমাত্র প্রত্যাশায় পরিণত হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









