যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্রস্তাবিত ‘রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ বাতিলের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় দেশব্যাপী ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশাল নগরীতে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী শহীদুল ইসলাম মিরন। সমাবেশে বিভিন্ন বামপন্থী রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আবদুল সাত্তার, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিম এবং বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জলিলুর রহমান।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, প্রস্তাবিত ‘রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ বাংলাদেশের জন্য একটি অসম, বৈষম্যমূলক ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি। তারা দাবি করেন, ৩২ পৃষ্ঠার চুক্তিপত্রে “Bangladesh shall” শব্দবন্ধটি ১৫৮ বার ব্যবহৃত হয়েছে, যেখানে “United States shall” ব্যবহৃত হয়েছে মাত্র ৯ বার, যা চুক্তির একতরফা চরিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
বক্তারা আরও বলেন, এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ৬৭১০টি পণ্যে শুল্ক ছাড় দিতে হবে, বিপরীতে বাংলাদেশ সুবিধা পাবে মাত্র ১৬৩৮টি পণ্যে। এতে বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ১৩২৭ কোটি টাকার আমদানি শুল্ক রাজস্ব হারাবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তাদের মতে, এই চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কম দামে পণ্য কেনার সুযোগ হারাবে এবং বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, তুলা, এলএনজি, প্রতিরক্ষা সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করতে বাধ্য হবে। এছাড়া চীন ও রাশিয়ার সাথে মুক্তবাণিজ্য করলে যুক্তরাষ্ট্র দণ্ডমূলক শুল্ক আরোপ করতে পারবে এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশের উপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিলে বাংলাদেশকেও তা অনুসরণ করতে হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা বলেন, দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষায় অবিলম্বে এই জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিল করতে হবে। অন্যথায় দেশের অর্থনীতি, শিল্প ও কৃষি খাত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অশ্বিনী কুমার হল চত্বর থেকে বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









