ভোলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মুনতাহা (৫) নামের এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির দাদা মাওলানা আবু সাঈদ গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে চরফ্যাশনের আবদুল্লাহপুর বাজারের উত্তর পাশে হাজী বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মুনতাহা চরফ্যাশন উপজেলার কলমী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের করিমপুর এলাকার বাসিন্দা মেহেদীর একমাত্র সন্তান।
প্রত্যক্ষদর্শী হযরত আলী জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি গাছ কেটে বাড়িতে ফেরার পথে আবদুল্লাহপুর বাজারের উত্তর পাশে একটি বিকট শব্দ শুনতে পান। পেছনে তাকিয়ে তিনি দেখতে পান, রাস্তার ওপরে একটি শিশু মোটরসাইকেলের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। একই স্থানে আরও একজন ব্যক্তি ও আরেকটি শিশু পড়ে ছিল। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু মুনতাহাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শিশুর স্বজনরা জানান, মাওলানা আবু সাঈদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে মেহেদী ঢাকায় গাড়িচালকের কাজ করেন এবং স্ত্রী ও একমাত্র কন্যা মুনতাহাকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে আবু সাঈদ ও তার স্ত্রী ঢাকায় বড় ছেলের বাসায় বেড়াতে গেলে নাতনি মুনতাহা দাদা-দাদির সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আসে। পরে (সোমবার) দাদার সঙ্গে বড় ফুফুর বাড়ি তজুমদ্দিন উপজেলা থেকে চরফ্যাশনের বাড়িতে ফেরার পথেই সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।
চরফ্যাশন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মাওলানা আবু সাঈদ তার নাতনি মুনতাহা ও মেয়ে তানজিলাকে (৯) নিয়ে মোটরসাইকেলে তজুমদ্দিন উপজেলা থেকে চরফ্যাশনের কলমী ইউনিয়নের বাড়িতে ফিরছিলেন। আবদুল্লাহপুর এলাকায় পৌঁছলে মোটরসাইকেলের সামনের চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে শিশু মুনতাহা মুখে ও মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হয় এবং পরে হাসপাতালে মারা যান।
মুনতাহার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশুটির স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ
কাওছার/ন্যাশনাল/এদিন


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









