চারপাশে পুরাতন কাপড় আর ছেড়াফাটা টিন দিয়ে কোনোমতে দাঁড়িয়ে থাকা এই জরাজীর্ণ ঘরে বাস করেন অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি সিদ্দিক হাওলাদার ও ফাতেমা বেগম।
এক চিলতে জমির ওপর নির্মিত এই ঘরে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, নেই পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা কিংবা নূন্যতম নাগরিক সুবিধা। কষ্টের শেষ এখানে হলেও পারতো, কিন্তু এই ঘরের ভেতরের অবস্থা আরও খারাপ। যেখানে বৃষ্টি নামলে ভেজে শরীর, আর রোদ উঠলে পোড়ে স্বপ্ন, সাথে নেই চোখে পড়ার মতো কোনো আসবাবপত্র। এই চিত্র প্রমাণ করে কতটা কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে এই বৃদ্ধ দম্পতিকে। জীবনের ৮০টি বছর পার করা এই দম্পতির চোখেমুখে এখন কেবল বেঁচে থাকার হাহাকার।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামে অবস্থিত পরিত্যক্ত এই ঘরটি বৃদ্ধ দম্পতি সিদ্দিক হাওলাদার ও ফাতেমার একমাত্র আশ্রয়স্থল। রশি দিয়ে বাঁধা ঘরের ভাঙা চাল ও আড়ার অবস্থা এতটাই নাজুক যে যেকোনো মুহূর্তে তা ধসে পড়তে পারে। ভেতরে আলোর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় দিন-রাতের পার্থক্য বোঝা দায়।
নিজস্ব পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও টিউবওয়েল না থাকায় প্রাকৃতিক কাজ, গোসল এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের পানি সংগ্রহের জন্য তাদের পুরোপুরি প্রতিবেশীদের বাড়ির ওপর নির্ভর করতে হয়।নিজেদের আয়-রোজগারের ক্ষমতা না থাকায় এবং একমাত্র সন্তান জীবিকার তাগিদে বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করায়, তাদের পুরোপুরি মানুষের দয়ার ওপর নির্ভর করতে হয়। সন্তানের মুখে অভাবের কথা শুনে নিজের রক্ত দিয়ে গড়া সন্তানের কাছেও যেন আজ তারা পর হয়ে আছেন।
শারীরিক অক্ষমতা ও বয়সের ভারে সিদ্দিক ফাতেমা এখন ঘর থেকে বের হতে পারেন না। জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে তারা অন্যের করুণার পথ চেয়ে থাকেন। কিন্তু বয়সের কারণে প্রতিদিন খাবারের সন্ধানে বের হতে না পারায় প্রায়শই এই দম্পতিকে অনাহারে দিন কাটাতে হয়।
জীবনের শেষ ভাগে এসে আর মানুষের কাছে হাত পাততে চান না। বরং সম্মানে বাঁচার তাগিদে একটি বাসযোগ্য ঘর ও দুবেলা পেট ভরে খাবারের নিশ্চয়তা চান তারা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা দ্রুত এগিয়ে এসে এই অসহায় দম্পতির দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।
এই অসহায় দম্পতির মানবেতর জীবনের কথা শুনে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান।
মানবেতর জীবনযাপন করা পিছিয়ে পড়া এই বৃদ্ধ দম্পতির দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রাঙ্গাবালী উপজেলার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









