রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কবলে পরে রোগীর মৃত্যু

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৩ পিএম

আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কবলে পরে রোগীর মৃত্যু

রোগীর মৃত্যুর পর রাত নয়টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে লাশ নিয়ে শরীয়তপুরের পালং মডেল থানায় আসেন রোগীর স্বজনেরা।

শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কবলে পরে জমশেদ আলী ঢালী নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

জমশেদ আলী ঢালী (৭০) শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা। এর আগেও একই এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কারণে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। গত বছরের ১৪ আগস্ট নবজাতক মৃত্যুর একটি ঘটনাও আলোচনায় আসে।

রোগীর স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারী) সকালে অসুস্থ অবস্থায় জমশেদ আলী ঢালীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে দ্রুত ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে স্বজনরা হাসপাতালের ভেতর থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স সাড়ে ছয় হাজার টাকায় ভাড়া করলেও রোগী তোলার পর চালক অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় রোগীকে নামিয়ে দিয়ে স্বজনরা স্থানীয় আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

ঢাকা যাওয়ার পথে গাগ্রীজোড়া এলাকায় স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সিন্ডিকেটের সদস্য সুমন, মানিকসহ চালক পারভেজ ও সজীবের নেতৃত্বে ৭-৮ জন ব্যক্তি অ্যাম্বুলেন্সটির গতিরোধ করেন। প্রায় ৩০ মিনিট বাগ্‌বিতণ্ডার পর স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে জামতলা এলাকায় পৌঁছালে আবারও একই ব্যক্তিরা অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে রেখে রোগী ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। প্রায় ৪০ মিনিট পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাড়িটি ছাড়া পেলে ঢাকার পথে রোগীর মৃত্যু হয়। বিকেল ৩টার দিকে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের নাতি জোবায়ের হোসেন রোমান বলেন, আমাদের কাছে টাকা কম থাকায় ৫ হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করি। এজন্য স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালকরা আমাদের গাড়ি আটকে রাখে। তাই আমার নানাকে সময়মতো ঢাকায় নেওয়া সম্ভব হয়নি। যারা এই কাজ করেছে তাদের বিচার চাই।

অ্যাম্বুলেন্সচালক সালমান জানান, স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালকরা ৭ হাজার টাকা ভাড়া চেয়েছিল। আমি ৫ হাজার টাকায় তাদের নিতে রাজি হই। এজন্য তারা দুবার গাড়ি আটকায় এবং চাবি কেড়ে নেয়।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যরা পলাতক রয়েছে।

শরীয়তপুর জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, এ ধরনের অপরাধের কোনো ছাড় নেই। যারা জড়িত তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। আমি কখনোই জোরপূর্বক রোগী নেওয়া বা গাড়ি আটকানোর নির্দেশ দিইনি।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কাওছার/ন্যাশনাল/এদিন

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.