শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

কুষ্টিয়ায় হাটে পেঁয়াজ চাষিদের মাথায় হাত

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

কুষ্টিয়ায় হাটে পেঁয়াজ চাষিদের মাথায় হাত

কুষ্টিয়ায় হাটগুলোতে পেঁয়াজ বিক্রির ক্ষেত্রে চরম নৈরাজ্য চলছে। সরকার নির্ধারিত ওজনের তোয়াক্কা না করে ইজারাদাররা নিজেদের মনগড়া নিয়মে পেঁয়াজ কিনছেন। এতে প্রতি মণ পেঁয়াজে কৃষকদের অতিরিক্ত ২ কেজি পেঁয়াজ খোয়া যাচ্ছে, আবার সরকারি হারের চেয়ে প্রায় ৮ গুণ বেশি খাজনা গুনতে হচ্ছে তাদের। কৃষকদের ভাষায়, এই হাটগুলো যেন তাদের জন্য ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচলিত মানদণ্ড অনুযায়ী ৪০ কেজিতে এক মণ হলেও, কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চৌরঙ্গীসহ জেলার বিভিন্ন হাটে ৪২ কেজিতে মণ হিসেবে পেঁয়াজ বেচাকেনা চলছে। এতে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রিতে কৃষক সরাসরি ২ কেজি পেঁয়াজ হারাচ্ছেন। শুধু ওজনে নয়, খাজনা আদায়েও চলছে চরম লুটপাট। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মণ পেঁয়াজের খাজনা ২ টাকা ৪০ পয়সা হওয়ার কথা থাকলেও, কৃষকদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে প্রতি মণে প্রায় ২০ টাকা।

গত রবিবার চৌরঙ্গী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বসা সাপ্তাহিক হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাজারো কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ভিড়। হাটে প্রায় ৫ হাজার মণ পেঁয়াজের আমদানি হয়েছিল। কিন্তু কৃষকের মুখের হাসি কেড়ে নিচ্ছে ওজনে কারচুপি ও অতিরিক্ত খাজনা।

পান্টি এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পেঁয়াজের বাজারে দাম নেই, তার ওপর মণে ২ কেজি বাড়তি ওজনের ‘ঢলন’ দিতে হয়। আবার খাজনা নেওয়া হচ্ছে মণে ২০ টাকা। এভাবে চললে আমাদের বাঁচার উপায় নেই।” ব্যবসায়ী ও ইজারাদারদের দাবি, কাঁচা পেঁয়াজ শুকিয়ে ওজন কমে যায় এবং হাটের ইজারা মূল্য অনেক বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা এমন নিয়ম করেছেন।

চৌরঙ্গী পেঁয়াজ হাটের ইজারাদার মতিউর রহমান জানান, ১০ বছর আগে ইজারা ছিল মাত্র সাত লাখ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে ৩১ লাখ ৭২ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই বাড়তি খরচ তুলতেই খাজনা বাড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কুমারখালি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. কাওছার আলী জানান, হাটে কৃষকরা যে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, তা বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি। বিষয়টি সমাধানের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হবে। জানতে চাইলে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, “৪২ কেজিতে মণ বা অতিরিক্ত খাজনা নেওয়ার বিষয়ে আমাদের কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে প্রশাসন যেন কুমারখালীর হাটগুলোতে কঠোর নজরদারি বাড়ায় এবং সঠিক ওজন ও সরকার নির্ধারিত খাজনা কার্যকর নিশ্চিত করে। অন্যথায় মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা নিঃস্ব হয়ে পড়বে।
 

আব্দুল কুদ্দুস/কুষ্টিয়া/কাওছার আল হাবীব

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.