জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে নির্বাচিত সরকার ও জনপ্রতিনিধিরা। জনগণ যাদের ভোট দিয়ে বানাবেন, তারা দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। শুধু তাদেরই অধিকার আছে সংবিধান সংশোধনের। কয়েকজন ব্যক্তি রাষ্ট্রের সংবিধান পরিবর্তন করতে পারেন না। অন্য কারোর এই অধিকার নেই।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জুলাই সনদ কার্যকর নিয়ে স্পিকার বলেন, “জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল ও সরকারি দলের মধ্যে খুব বেশি মতভেদ নেই। কিছু বিরোধ আছে, সেটি রাজনৈতিক কূটচাল ও অন্যকে ডাউন করার চেষ্টা আছে। আমার মনে হয়, দুই দল সমঝোতায় উপনীত হতে পারবে। যাতে জুলাই সনদের মূল বিষয়টা বাস্তবায়ন করা যায়। দেশে ফের মাফিয়া তন্ত্রের প্রত্যাবর্তন না হয় এ বিষয়ে উভয় দল একমত। আগামী দিনে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।”
নোট অব ডিসেন্টের বিষয়ে তিনি বলেন, “সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি, তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, সংসদেও তারা বলেছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। কয়েকটি বিষয়ে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। জনগণ তাদের রায় দিয়েছে, সুতরাং জুলাই সনদেও লেখা রয়েছে, যে রাজনৈতিক দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, তারা যদি জনগণের ম্যান্ডেড পায়, তারা নোট অব ডিসেন্টকে কার্যকর করতে পারবে।”
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “তারা (অন্তবর্তীকালীন সরকার) কিছু উদ্ভট নিয়ম করে গেছে যে ব্যক্তির নির্দেশে অটোমেটিক্যালি সংবিধান পরিবর্তন হয়ে যায়। এ ছাড়া জনগণও কয়েকটি বিষয়ে স্পষ্ট ম্যান্ডেড দিয়েছে। বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকারের লিগ্যাসি হিসেবে কিছু বিষয় রয়ে গেছে, এর মধ্যে একটি হলো জুলাই সনদ। আমি আশা করি, সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলে সংবিধান সংশোধন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। অবশেষে তাদের একটা কৃতিত্ব দিই, তারা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই, তারা একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। এখন আবার গণতন্ত্রের ট্রাকে উঠেছে দেশ। আশা করব, এ রাষ্ট্র সুন্দরভাবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অগ্রসর হবে, জাতি সমৃদ্ধ হবে।”
সাম্প্রতিক হামের প্রার্দুভাবের বিষয়ে স্পিকার বলেন, “হামের টিকা না দেওয়ায় বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন। অদক্ষ লোকের হাতে ক্ষমতা পড়লে জনগণের অনেক ভোগান্তি হয়। তারা নিরপেক্ষ সরকার ছিল, চেষ্টা করেছে, কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাবে তারা সফল হতে পারেনি।”
এ সময় তিনদিনের সরকারি সফরে ভোলায় পৌঁছালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে (বীরবিক্রম) পুলিশের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









