রাতভর কুয়াশা ঝরে বৃষ্টির মত। সকালের দিকেও কুয়াশাচ্ছাদিত থাকে পথঘাট। ঘন কুয়াশার সঙ্গে কনকনে শীতে কাবু কুড়িগ্রামের পুরো জনপদ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কষ্ট বেড়েছে বহুগুণ।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।
এদিকে শীতের প্রভাবে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন শতশত রোগী কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালসহ জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া শীতজনিত কারণে অন্যান্য সময়ের তুলনায় হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যার বিপরীতে দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকায় প্রয়োজনীয় বেডের অভাবে অনেক রোগীকে মেঝেতে বিছানা পেতে থাকতে হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আল আমিন বলেন, তীব্র শীতের কারণে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন।
কুড়িগ্রাম পৌরসভার চামড়ার গোলা এলাকার দিনমজুর রাকিব হোসেন বলেন, শীতের তীব্রতায় আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। ধারদেনা করে কোনোমতে সংসার চালাতে হচ্ছে।
ধরলাম এলাকার ভ্যানচালক মজিবর মিয়া বলেন, আগে ভ্যান চালিয়ে দিনে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় হতো, এখন ঠান্ডার কারণে তা কমে ২০০ টাকায় নেমে এসেছে।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় ২২ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং নগদ ৫৪ লাখ টাকা মজুদ আছে।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, কুড়িগ্রাম জেলায় আজ শুক্রবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন







