নোয়াখালীর হাতিয়ায় “মর্যাদার সাথে সহনশীলতা” শীর্ষক একটি সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশে তাপপ্রবাহসহ নানা দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে, যার প্রভাব নারীদের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ছে। বিশেষ করে তীব্র তাপপ্রবাহের সময় গৃহস্থালি কাজ ও রান্নার কারণে নারীরা অতিরিক্ত তাপের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার (GBV) ঝুঁকিতে থাকেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) হাতিয়ার আম্বিয়া কমিউনিটি সেন্টারে পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (PRAN)-এর সহযোগিতায় অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও ইউএনএফপিএ কর্মসূচিটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করে।
কর্মসূচিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন পরিচালিত ১৫টি পল্লী মাতৃকেন্দ্রের (RMC) সভানেত্রীসহ প্রায় ১০০ জন সদস্য এবং উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, নোয়াখালীর উপ-পরিচালক জেড. এম. মিজানুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সহকারী পরিচালক (কার্যক্রম ও সামাজিক নিরাপত্তা শাখা) মোহাম্মদ আবদুর রহমান এবং ইউএনএফপিএ’র জিবিভি ইন ইমার্জেন্সি অফিসার সামসাদ খান। পুরো কর্মসূচি পরিচালনা করেন প্রান-এর প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর উম্মে সালমা পপি।
বক্তারা বলেন, দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতার সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চল হাতিয়াতেও তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়ছে। এতে নারীরা দ্বিমুখী ঝুঁকিতে পড়ছেন—একদিকে স্বাস্থ্যগত সমস্যা, অন্যদিকে সহিংসতার আশঙ্কা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নারীদের সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর সেবা কাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
তারা আরো জানান, তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত বিশ্রাম, হালকা ও আরামদায়ক পোশাক ব্যবহার এবং কাজের সময়সূচি সামঞ্জস্য করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে জিবিভি রেফারেল পথওয়ে সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত সহায়তা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তাপপ্রবাহ থেকে সুরক্ষার জন্য হাতপাখা, গামছা এবং জিবিভি রেফারেল পথওয়ে সংক্রান্ত লিফলেট বিতরণ করা হয়। এছাড়া পল্লী মাতৃকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে ১৫টি আরএমসি’র সভানেত্রীদের মধ্যে একটি করে হোয়াইটবোর্ড, দুটি করে বিছানা, রেজিস্টার খাতা ও প্রয়োজনীয় স্টেশনারি উপকরণ বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, এসব সহায়ক উপকরণ পল্লী মাতৃকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমকে আরও বেগবান করবে এবং নারীদের ক্ষমতায়ন ও সহিংসতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









