রোগীর স্বজনদের দ্বারা হেনস্তার শিকার হওয়ার প্রতিবাদে ও দোষীদের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। আকস্মিক এই কর্মবিরতির ফলে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা শত শত রোগী।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে ২৪ ঘণ্টার এই কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
ইন্টার্ন ডক্টর সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর একাধিক হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার রাতে হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে দুজন পুরুষ ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক রোগীর স্বজনদের দ্বারা হেনস্তা এবং মবের শিকার হন। এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় এই কর্মবিরতি শুরু করেন তারা।
দাবি আদায়ে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন বিক্ষুব্ধ ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২৪ ঘণ্টার এই কর্মবিরতির মধ্য দিয়ে তাদের দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে ইর্ন্টান চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালনে সীমাহীন দূর্ভোগে পড়েছে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। তাদের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা বক্কর আলী নামের এক রোগীর স্বজন জানান, সোমবার তিনি তার স্ত্রীকে হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেছেন। কিন্তু রাত থেকেই চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় এখন পর্যন্ত তার স্ত্রীর কোনো চিকিৎসা শুরু হয়নি। বক্কর আলীর মতো দূরদূরান্ত থেকে আসা অসংখ্য রোগী ও তাদের স্বজনরা চিকিৎসা না পেয়ে চরম অসহায়ত্ব ও দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন।
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শঙ্কর কে. বিশ্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, “ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির ফলে চিকিৎসাসেবায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। তবে হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো রোগীদের সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।”
তিনি আরো জানান, উদ্ভূত এই সংকট নিরসনে ইতিমধ্যে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে আলোচনা ও মিটিং করা হয়েছে। তবে ওই মিটিংয়ে কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









