সূর্যের আলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে চলছে সেচ পাম্প। ডিজেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার বিড়ম্বনা নেই। নেই বিদ্যুতের জন্য অপেক্ষা। এভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে সোলার চালিত নলকূপ থেকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের পরশুরিয়া গ্রামের চাষীরা বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করছে।
ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বজুড়ে নিরবিচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ব্যহত হচ্ছে। এতে করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিসহ লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা চেপে বসেছে। বিশেষ করে বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিজেল প্রাপ্তিতে অনেক কৃষকই ভোগান্তির শিকার হওয়ায় উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এমন বাস্তবতায় আশার আলো দেখাচ্ছে এই সৌরবিদ্যুৎ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সোলার প্যানেল থেকে সৌরশক্তিকে ব্যবহার করে যন্ত্রের মাধ্যমে সেই পানি যাচ্ছে কৃষি জমির সেচ কাজে। সোলার প্যানেলে মাধ্যমে পাম্প চলছে, নেই তেল খরচ কিংবা লোডশেডিংয়ের ঝামেলা। জীবাশ্ম জ্বালানির রাহুমুক্ত হয়ে নবায়নযোগ্য এই পদ্ধতিতে সেচ খরচ কমেছে অর্ধেক।
বিএডিসি সূত্রে জানা যায়, প্রান্তিক চাষীদের জন্য ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ১ কিউসেক ভূগর্ভস্থ সেচনলা স্থাপন করা হয়। স্থানীয় চাষীরা জানান, তেলের জন্য চিন্তা নেই। সোলার থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের মাধ্যমে পানিটা পাব আমরা। ফসল ভালো হবে। খরচটাও কম লাগবে। এতে সুবিধা আছে। আগে যেখানে তাদের ঘণ্টা প্রতি সেচ মেশিন মালিককে দিতে হয় ১৫০ টাকা সেখানে এখন অল্প কিছু টাকা দিলেই হচ্ছে।
উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের পরশুরিয়া গ্রামে বিএডিসি’র এই প্রকল্পটি পরিচালনা করেন আবু জাফর। তিনি জানান, তার এলাকায় বোরো ধান চাষ হয়। তিনি ২০ একর জমি পর্যন্ত জমিতে সেচ দিতে পারেন। যেহেতু সৌরবিদ্যুতে চলে তাই বর্তমানে জ্বালানি তেলের প্রাপ্তি কঠিন হলেও কৃষকদের কোনো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুন নেছা সুমি জানান, জ্বালানির জন্য আমাদের এ অঞ্চলে বোরো চাষের সমস্যা হচ্ছে। সৌর প্রকল্পটি চালু হওয়ার কারণে জ্বালানি সংকট মোকাবেলা হচ্ছে। কৃষকরা সাশ্রয়ী হচ্ছে। বিদ্যুতের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয় না।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









