ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর বাজার এলাকায় গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমধর্মী দৃশ্য, যা ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের কৌতূহল ও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একটি ছোট্ট ঝোপের ভেতরে প্রায় ২০০টি গুইসাপের বসবাস, যাদের আকার-আকৃতি দেখে যে কেউ প্রথমে ভীত হতে পারেন। তবে আশ্চর্যের বিষয়, স্থানীয়দের সঙ্গে এসব প্রাণীর গড়ে উঠেছে এক অনন্য সহাবস্থান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী এসব গুইসাপকে মরা মুরগি, নাড়িভুড়ি ও বিভিন্ন বর্জ্য খেতে দিয়ে আসছেন। ফলে প্রাণীগুলো ধীরে ধীরে মানুষের কাছাকাছি চলে এসেছে এবং এখন বাজার সংলগ্ন এলাকাতেই তাদের স্থায়ী আবাস গড়ে উঠেছে। মাঝে মধ্যে খাদ্যের সন্ধানে এসব গুইসাপ আশপাশের বসতবাড়িতেও প্রবেশ করে, তবে স্থানীয়রা তাদের ক্ষতি না করে বরং স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করছেন।
বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, নিয়মিত খাবার দেওয়ার ফলে গুইসাপগুলো মানুষের উপস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এখানে থাকা প্রতিটি গুইসাপের ওজন প্রায় এক থেকে দেড় মণ পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এত বড় আকারের প্রাণী হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বেশ শান্তিপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দা তারিকুল ইসলাম বলেন, “গুইসাপগুলো কখনো মানুষকে আক্রমণ করে না। আমরা তাদের খাবার দেই, তাই তারা আমাদের ক্ষতি করে না। তবে মাঝে মধ্যে আমাদের হাঁস-মুরগির ওপর আক্রমণ করে থাকে।”
আরেক বাসিন্দা জালাল উদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “এই প্রাণীগুলো এখন বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। সঠিক সংরক্ষণ ও সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলে এটি পরিবেশ রক্ষার একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।”
সদরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সব্যসাচী মজুমদার বলেন, “গুইসাপ সাধারণত মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। এদের উত্ত্যক্ত না করলে তারা কাউকে আক্রমণ করে না।” পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









