দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থকারী ফসল পাট, যাকে সোনালী আঁশ বলা হয়। সেই পাট চাষ এবার মাগুরা জেলায় পড়েছে অনিশ্চয়তার মুখে। মূল কারণ জ্বালানি সংকট। ডিজেল ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ।
জেলার শ্রীপুর, মহম্মদপুর ও শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, পাটের জমিতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় চারা ঠিকমতো বাড়ছে না। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে সেচ দিতে পারছেন না, আবার যারা দিচ্ছেন তাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ।
শ্রীপুর উপজেলার কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “আগে যেখানে এক বিঘা জমিতে ২-৩ বার সেচ দিলেই হতো, এখন জ্বালানি না থাকায় ঠিকমতো সেচ দিতে পারছি না। ডিজেলের দাম ও সংকট, দুটি মিলিয়ে আমরা চরম বিপদে আছি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় সেচের জন্য ব্যবহৃত অধিকাংশ গভীর ও অগভীর নলকূপ ডিজেলচালিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ডিজেল সরবরাহে ঘাটতি ও দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের জন্য সেচ ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎনির্ভর সেচ ব্যবস্থাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় কার্যকর হচ্ছে না।
মহম্মদপুর উপজেলার আরেক কৃষক রহিম শেখ বলেন, “বিদ্যুৎ থাকলে পাম্প চালানো যায়, কিন্তু দিনে কয়েকবার লোডশেডিং হয়। ফলে পাটের জমিতে ঠিক সময়ে পানি দিতে পারছি না।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মাগুরায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, “জ্বালানি সংকট একটি বাস্তব সমস্যা। আমরা কৃষকদের বিকল্প পদ্ধতিতে সেচ ব্যবস্থার পরামর্শ দিচ্ছি এবং সরকারিভাবে সহায়তার বিষয়েও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাট বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এ খাতে উৎপাদন ব্যাহত হলে তা শুধু কৃষক নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে কৃষকরা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, ভর্তুকি প্রদান এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তা না হলে মাগুরায় পাট চাষে বড় ধরনের ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জ্বালানি সংকট শুধু একটি সাময়িক সমস্যা নয়, এটি কৃষি ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সোনালী আঁশের ঐতিহ্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









