যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী যেন শুধু একটি খাল পুনঃখননের অনুষ্ঠানের স্থান ছিল না, ছিল নতুন প্রতিশ্রুতি আর প্রত্যাশার মিলনমেলা।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বহু মানুষের ভিড়, উৎসবমুখর পরিবেশ আর উন্নয়নের প্রত্যাশার মাঝেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিলেন নতুন কর্মসূচির। তিনি বলেন, মা-বোনদের রান্নার কষ্ট কমাতে সরকার এবার এলপিজি কার্ড দেবে।
এই এক বাক্যেই যেন উপস্থিত নারীদের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি। কারণ গ্রাম হোক বা শহর, রান্নাঘরের কষ্টের গল্প প্রায় একই। কখনো জ্বালানির সংকট, কখনো বাড়তি খরচ, কখনো কাঠ-খড়ির ধোঁয়া। সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মা-বোনদের একটি কারণে খুব কষ্ট হয়, রান্নাবাড়ির ব্যাপারে কষ্ট হয়। সেটি গ্রামের মা-বোনই হোক, সেটি শহরের মা-বোনই হোক।
তিনি জানান, দেশের প্রতিটি সাধারণ ও নারীপ্রধান পরিবারের হাতে যেমন ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হচ্ছে, তেমনি এবার আলাদা করে এলপিজি কার্ড দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের কাছে সহজে এলপিজি গ্যাস পৌঁছে দেয়া হবে, যাতে রান্নার জন্য তাদের আর ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।
সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে এসে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। নিজ হাতে মাটি কেটে খননকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তিনি। এরপর বিশাল জনসমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে উন্নয়ন, নারীকল্যাণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নানা দিক তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, সরকার তা বাস্তবায়ন করছে। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম খাল খনন করব, আমরা ওয়াদা রেখেছি। বলেছিলাম মা-বোনদের স্বাবলম্বী করার জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেব। ইনশাল্লাহ আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের সব গ্রামে সব মায়েদের হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করব।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে নারীশিক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি যারা ভালো ফল করবে, তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে তারা উচ্চশিক্ষায় আরো এগিয়ে যেতে পারে।
উলাশীর খালপাড়ে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও উন্নয়নের নতুন আশার কথা বলেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে থাকায় জলাবদ্ধতা ছিল নিত্য সমস্যা। বর্ষা মৌসুমে কৃষিজমি ডুবে যেত, পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হতো। খালটি পুনঃখনন করা হলে জলাবদ্ধতা কমবে, সেচব্যবস্থা উন্নত হবে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে।
স্থানীয় কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, এই খাল আগে এলাকার প্রাণ ছিল। পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জমির অনেক ক্ষতি হয়েছে। আবার খনন হলে কৃষকের উপকার হবে।
অনুষ্ঠানস্থলে নারী উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই এলপিজি কার্ডের ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। গৃহিণী পপি খাতুন বলেন, রান্নার গ্যাসের দাম বাড়লে আমাদের খুব কষ্ট হয়। যদি কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা পাই, তাহলে সংসার চালাতে সুবিধা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









