তিনদিন ধরে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সেই সাথে চলছে বজ্রপাত। জীবনবাজি রেখে বৃষ্টি আর বজ্রপাতের মধ্যেই সোনার ফসল ঘরে তুলতে ধান কাটতে যাচ্ছেন কিশোরগঞ্জের কৃষকেরা। তবে টানা বৃষ্টিতে হাওরের অনেক জায়গায় তলিয়ে গেছে পাকা ধান।
গত তিনদিনে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের হাওরের কিছু এলাকায় প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যে ধান অল্পদিন পরেই ঘরের গোলাতে তোলার কথা, সে ধান এখন পানিতে তলিয়ে আছে। কেউ ডুব দিয়ে কিছু ধান কাটতে পারলেও অনেক কৃষক আশা ছেড়ে দিয়েছেন। চোখের সামনে পরিশ্রমের ফসল নষ্ট হওয়ার কষ্ট সহ্য করতে পারছেন না কৃষকরা।
গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে হাওরে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন হাজারো কৃষক। অপরিকল্পিতভাবে হাওরে উঁচু রাস্তা নির্মাণ, পলি জমে নদী ভরাট হওয়া এবং ফসল রক্ষার বাঁধের ত্রুটির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় লোকজন।
পাকা ধান তলিয়ে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হলেও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছে এ–সংক্রান্ত সঠিক তথ্য নেই। তবে কৃষকদের দাবি, সব মিলিয়ে দুই থেকে আড়াই হাজার হেক্টর বোরো জমির ধান তলিয়ে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কিশোরগঞ্জে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে চাষ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ২৯ মেট্রিক টন ধান, যা থেকে প্রায় ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৬ মেট্রিক টন চাল পাওয়া যাবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাদিকুর রহমান বলেন, “পলি জমে নদীর পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় হাওরের বিভিন্ন জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব পেতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









