দেশের স্থলবন্দরগুলোর আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারে পণ্যবাহী ট্রাকের ওজন নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয় ওজন স্কেল(ওয়েইব্রিজ)। এই ওজনের ভিত্তিতেই শুল্ক ও কর নির্ধারণ করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্যবাহী ট্রাকের ওজন পরিমাপের জন্য ডিজিটাল ওয়েব্রিজ স্কেল(ওজন পরিমাপক যন্ত্র)রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই বেনাপোল বন্দরে ওজন কারসাজির অভিযোগ রয়েছে। এই ওজন স্কেল ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হচ্ছে ব্যাপক রাজস্ব ফাঁকি। শুল্ক ফাঁকিবাজদের ভিড়ে স্বচ্ছ আমদানিকারকরা অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থসহ আমদানি বাণিজ্যে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। ওজন কম দেখানো,ডুপ্লিকেট ওজন স্লিপ,আংশিক খালাস ও ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের মত কৌশল এটে কিছু অসাধু আমদানিকারক,সি এন্ড এজেন্ট,অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তা বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারী যোগ সাজজে দীর্ঘ বৎসর ধরেই এপথে সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছে।
স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় জালিয়াতি ও অবৈধ্যভাবে পণ্য খালাসের অভিযোগে বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক বদলী করা হলেও ৫ আগস্ট ২৪ পরবর্তী সময়ে শুল্ক ফাঁকিবাজ চক্রটি জেঁকে বসেছে। শুল্ক ফাঁকি চেষ্ঠায় গত ২৫ এপ্রিল২৬ইং তারিখে বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারত হতে আমদানিকৃত পণ্য বোঝাই ( ফল) ভারতীয় ট্রাক নং- ডাব্লু-বি-২৩ এফ ৮১৪২ এর ওজন স্কেলের স্লিপে জালিয়াতির মাধ্যমে খালি গাড়ির ওজন ৫৭০কেজি বাড়ানোর অভিযোগ ওঠেছে।
অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন,এ ঘটনায় ইতিমধ্যে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধ প্রমানিত হলে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেনাপোল স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়,পণ্য চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রোকেয়া ট্রেডার্স এবং মেনোফেস্ট নং- ৬০১,২০২৬,০০১,০০২৫৮৩৩/০৪। পণ্য খালাস শেষে ওজন স্কেলে ওঠে গাড়ীর ওজন স্লিপ নিয়ে বের হওয়ার সময় গোয়েন্দা সংস্থার নিকট গাড়ীর ওজনের গরমিল পরিলক্ষীত হয়।
এ ঘটনায় ওজন স্কেলের দায়িত্বে থাকা বেনাপোল স্থলবন্দরের ট্রাফিক পরিদর্শক হাফিজুর রহমান মিয়া মুঠো ফোনে বলেন এটি টেকনিক্যাল প্রব্লেম। একটি যন্ত্রের মধ্যে টেকনিক্যাল প্রব্লেম থাকতে পারে। তাৎক্ষনিকভাবে অন্য স্কেলে ওজন দিয়ে ঐ দিনেই মাল ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সি এন্ড এজেন্ট প্রতিনিধি জানান, স্থলবন্দরে কর্মরত হাফিজুর মিয়া,সুইট ও রনিসহ একাধিক শেড ইনচার্জ মোটা অঙ্কের অর্থ ঘুস নিয়ে আমদানিকারক প্রতিনিধিদের নিয়মিত শুল্ক ফাঁকিতে সহায়তা দিয়ে থাকে যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠ তদন্তে প্রমানিত হবে। যদিও অভিযুক্ত কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্কীকার করেন। ওজন স্কেলের দায়িত্বপালন কালীন বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তরা আনুমানিক ৭০ হতে ৮০টি ভারতীয় ট্রাকের খালি গাড়ির ওজন বাড়িয়ে স্লিপ সরবারহ করেছে। ঐ সমস্ত ট্রাক গুলো নিয়মিত ভাবে শুল্ক ফাঁকিবাজ চক্রের কাঁচামালসহ বিভিন্ন ধরনের আমদানি পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে বলে তিনি আরো জানান।
চাঞ্চল্যকর এ তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালালে সত্যতা মেলে। বন্দর সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়,ভারত হতে আমদানি পণ্য বোঝাই ট্রাক বেনাপোল স্থলবন্দরে ঢুকে ওজন স্কেলের একবার ওজন স্লিপ নিলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে বিশেষ কারন ছাড়া আর খালি ট্রাকের ওজন করা হয়না। এ সুযোগের অপব্যবহার করে অসাধু কাস্টমস ও বন্দরের কর্মকর্তারা রাতা রাতি ফুলে ফেঁফে ওঠছেন। শুল্ক ফাঁকি সিন্ডিকেটের ফাঁদে ওজন স্কেল কারসাজিতে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারালেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নীরব।
এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনারের ফোনে একাধিকবার কল করেও সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যাইনী। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী রাজস্ববোর্ডের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শুল্কফাঁকি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াসহ শুল্ক ফাঁকিবাজদের আইনের আওতায় আনার।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









