পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় একটি এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৫ মে) নির্যাতিত শিশুটি পরিবারের কাছে বিষয়টি জানালে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এরআগে, সোমবার (৪ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব নেতা আকরামিয়া শিশু এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাজলকাঠি গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ সফিকুল ইসলাম জিসান ওই শিশুকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক অনৈতিক আচরণ করেন। পরেরদিন সকালে নির্যাতিত শিশুটি মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার পর ভেঙে পড়েছেন শিশুটির বাবা-মা। তারা জানান, সন্তানের নিরাপদ শিক্ষা ও ভবিষ্যতের আশায় মাদ্রাসায় ভর্তি করালেও এমন ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে তা তারা কল্পনাও করেননি। তারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। বক্তারা বলেন, শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এমন অপরাধের কঠোর বিচার জরুরি।
মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক গত ২৮ এপ্রিল মাদ্রাসাটিতে হিফজ বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।
রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ইলিয়াছ হোসেন মুন্সি জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









