খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের বেলছড়ি গ্রামের প্রায় ৮০ বছর বয়সী ছাহেরা বেগম এখনো বসবাস করছেন ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভাঙাচোরা কুঁড়েঘরে। স্বামীহারা এই বৃদ্ধা একমাত্র ছেলে, পুত্রবধূ ও দুই নাতনিকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটালেও বছরের পর বছর কোনো সরকারি স্থায়ী সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বেলছড়ি ৪নং ওয়ার্ডের এই পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই চরম দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। অথচ বিগত বছরগুলোতে সরকারের আশ্রয়ণ ও গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এলাকায় অনেক পরিবার ঘর পেলেও ছাহেরা বেগমের পরিবার সেই তালিকায় স্থান পায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবারটি একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে বসবাস করছে, যার অধিকাংশ অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে, আবার রোদ উঠলে ঘর অসহনীয় গরম হয়ে ওঠে। কোথাও কোথাও চালের টিনে বড় ছিদ্র থাকায় আকাশও দেখা যায়।
ঘরের ভেতরে কোনো স্বাভাবিক বসবাসের পরিবেশ নেই। একটি ছোট মাচাংয়ের নিচে পাটি বিছিয়ে পরিবারটির রাত কাটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বৃষ্টির সময় পানি থেকে বাঁচতে ঘরের এক কোণে জড়োসড়ো হয়ে থাকতে হয় তাদের।
ছাহেরা বেগমের ছেলে দিনমজুরের কাজ করে কোনোরকমে সংসার চালান। প্রতিদিন কাজ মিললেও খাবার জোটে, না মিললে অনিশ্চয়তায় কাটে পুরো পরিবার। বৃদ্ধ মায়ের চিকিৎসা, ওষুধ এবং দুই শিশুর ভরণপোষণ চালাতে গিয়ে তিনি চরম অর্থকষ্টে রয়েছেন।
দীঘিনালা উপজেলা বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক মোবারক হোসেন বলেন, প্রকৃত অসহায় পরিবারের তালিকা প্রণয়নে অতীতে নানা অনিয়ম ও প্রভাবের অভিযোগ ছিল। তাদের দাবি, যেসব পরিবার বাস্তবেই নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন ছিল, তাদের অনেকেই সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, অন্তত একটি নিরাপদ ঘর ও ন্যূনতম মানবিক সহায়তা পেলে পরিবারটি স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি প্রকৃত অসহায়দের সরকারি সহায়তা থেকে কেন বঞ্চিত হতে হয়েছে, সেটিও তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









