বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকার গণভোটের রায় ও জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে বৈষম্যমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একইসঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে জনমত দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তারা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং ভোটও দিয়েছেন। এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও গণভোটের রায় মানছেন না। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে ৭০ ভাগ জনমতকে উপেক্ষা করছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, উন্নয়ন কার্যক্রমেও আঞ্চলিক ও দলীয় প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, একটি এলাকাতেই একাধারে সিটি করপোরেশন, নতুন উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হচ্ছে। অথচ সার্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় এসব উন্নয়ন ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের বিরোধিতা করি না, বরং উৎসাহিত করি। তবে উন্নয়নের ক্ষেত্রে আঞ্চলিকতা বা সরকারদলীয় এমপিকে প্রাধান্য দেওয়াকে গ্রহণযোগ্য মনে করি না। ন্যায্যতা ও সাম্যের ভিত্তিতে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সৈয়দপুর অত্যন্ত গুরুপূর্ণ স্থান। এটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলে উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এটি।
তিনি বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবিগুলো উপেক্ষা করা কখনোই কল্যাণকর নয়। বিএনপি যেভাবে জনস্বার্থের বিষয়গুলোতে ব্যাকপাস খেলছে, তাতে উল্টো গোল খাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এটি শুধু বিএনপির জন্য নয়, দেশের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য যারা আন্দোলন করেছে, তারাই এখন অনেক গণমাধ্যমকে কুক্ষিগত করে সংবাদকর্মীদের চাকরিচ্যুত ও নির্যাতন করছে। বিশেষ করে সরকারের ভুল কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কথা বলছেন এমন সাংবাদিকদের টার্গেট করে হেনস্তা করা হচ্ছে।
এর আগে তিনি ঢাকা থেকে ইউএস বাংলা এয়ারওয়েজ-এর একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুরে পৌঁছান। তার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান ও সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।
বিমানবন্দরে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, নীলফামারী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল।
পরে তারা পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এসময় জামায়াতের সৈয়দপুর উপজেলা আমির শফিকুল ইসলাম, উপজেলা সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর আমির শরফুদ্দিন খান, শহর সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









