রংপুরের এক পোশাক শ্রমিক দম্পতি নিজের অপহৃত কন্যা শিশু সন্তানকে ফেরত পেতে বিজ্ঞ আদালতে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রায় তিন বছর বয়সী ওই শিশুর নাম মারিয়া আক্তার ইভা।
শনিবার বিকেলে মাইদুল ইসলাম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, সরল মনে দাওয়াত খেতে গিয়ে নিজের ঔরসজাত কন্যা শিশুকে আজ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। আমি এবং আমার স্ত্রী রিপনা খাতুন ভালো-মন্দ খেতে বসলেই সন্তানের মুখটা চোখে ভেসে ওঠে। তখন আর সেই খাবার খেতে পারি না। শুধু কি তাই, ঠিকমতো দুচোখ জুড়েও ঘুম আসে না। যতক্ষণ কাজে থাকি ততক্ষণ ঠিকঠাক থাকি। রুমে ফিরলেই সন্তানের কথা মনে পড়ে। কাঁদতে কাঁদতে দু'চোখে অনেকটা কম দেখি।
জানা যায়, রংপুরের পীরগাছা উপজেলার অন্নদানগর ইউপির রাজবল্লভ গ্রামের বাসিন্দা আলামিন হোসেনের পুত্র মো: মাইদুল ইসলাম স্ত্রী রিপনা খাতুন সহ কন্যা শিশু সন্তান মারিয়া আক্তার ইভাকে নিয়ে সুখে শান্তিতে দিনাতিপাত করছিলেন।
এরই এক পর্যায়ে মাইদুল- রিপনা দম্পতির সাথে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার পূর্ব শিমুলবাড়ী গ্রামের আব্দুজ জব্বার মিয়ার পুত্র ইয়াকুব মিয়ার সাথে।
তারপর, ইয়াকুব মিয়া দাওয়াত করেন মাইদুল-রিপনা দম্পতিকে। গত ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ইয়াকুব মিয়ার বাড়িতে দাওয়াত খাওয়া শেষে বিকেলে নিজ বাড়িতে ফিরবে এমন সময় মাইদুল - রিপনা দম্পতির কন্যা শিশু সন্তান মারিয়া আক্তার ইভা কে আটক করেন ইয়াকুব মিয়া। সেই সাথে দত্তক দেওয়ার জোর দাবি করেন। এতে মাইদুল- রিপনা দম্পতি অস্বীকৃতি জানালে মোটা অংকের অর্থের প্রলোভন দেখানো হয়।
এতেও সম্মতি না দেওয়ায় মাইদুল - রিপনাকে ভয় ভীতি দেখায় এবং মারপিট করে তাড়িয়ে দেয়। সেই সাথে ভুয়া দত্তকনামা তৈরি করে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা করেন।
ফলে, নিরুপায় হয়ে মাইদুল-রিপনা দম্পতি জলঢাকা থানা পুলিশের শরণাপন্ন হয়। এরপর,জলঢাকা থানা পুলিশ নীলফামারী বিজ্ঞ জজ আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। সেই পরামর্শ অনুযায়ী অপহৃত কন্যা শিশু সন্তানকে উদ্ধারের জন্য নীলফামারী ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১০০ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করেন মাইদুল- রিপনা দম্পতি ।
তারপর, জলঢাকা থানা পুলিশ মারিয়া আকতার ইভাকে উদ্ধার করে ২০২৫ খ্রীব্দের ২৮ জুলাই নীলফামারী আদালতে হাজির করেন। সেই সাথে ইয়াকুবের আইনজীবী, মাইদুলের আইনজীবী এবং পিপি সহ ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে কথা বলে ইয়াকুব মিয়ার নিকট সাতদিনের জিম্মায় শিশুটিকে দেওয়া হয়।
পরে, তখন থেকে ইয়াকুব মিয়া, শেফালী বেগম ও ইকরামুল হক একরা সহ তার ছেলে শামীম ও সোহেল সহ শিশুটিকে নিয়ে প্রায় ৮মাস যাবৎ আত্মগোপনে রয়েছেন। সেই সাথে বর্তমানে মোকদ্দমাটি বিচারাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ইয়াকুব মিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায় নাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান জানান, আমরা আশা করছি, আইনি লড়াইয়ে আমার মক্কেল মাইদুল ইসলাম তার অপহৃত শিশু কণ্যা মারিয়া আক্তার ইভা কে ফেরত পাবেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









