বাগেরহাটে সুন্দরবনের বনরক্ষীদের ওপর হামলা চালিয়ে এক হরিণ শিকারীকে ছিনিয়ে নিয়েছে সংঘবদ্ধ শিকারী চক্র। হামলায় পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের চরখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল জাবের ও নৌকা চালক অপূর্ব কুমার সাহা আহত হন।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে এ ঘটনায় শিকারী দলের মূল হোতা চরদুয়ানী এলাকার মৃত হাকিম রাজার ছেলে কুদ্দুস রাজাসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনের নামে শরণখোলা থানায় মামলা দায়ের করেছে বনবিভাগ।
এরআগে, আহতরা মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। ঘটনাটি ঘটেছে ওইদিন বিকেল তিনটার দিকে পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের কালিয়ার খাল এলাকায়।
বন বিভাগ জানায়, চরখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল জাবেরের নেতৃত্বে ওইদিন (মঙ্গলবার) দুপুরে সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের শূয়োরগুদি নামক এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন বনরক্ষীরা। এমন সময় ওই এলাকার বনে একদল হরিণ শিকারী দেখতে পেয়ে তাদেরকে ধরার চেষ্টা করেন তারা। শিকারীদের না পেয়ে কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার ভান করে বনরক্ষীরা অবস্থান নেন বনের আড়ালে। এর পরপরই ট্রলার নিয়ে নিরাপদ দূরত্বে থাকা শিকারীদের দলনেতা কুদ্দুস রাজা উপস্থিত হন সেখানে। বনরক্ষীরা চলে গেছে এমনটা ভেবে পলাতক শিকারীদের ট্রলারে তুলে দ্রুত লোকালয়ের দিকে ছুটতে থাকেন। এ সময় বনরক্ষীরাও তাদের ধাওয়া করে ধরার চেষ্টা করেন। একপর্যায় শিকারীরা ট্রলার চালিয়ে চরদুয়ানির কালিয়ার খাল এলাকায় উঠে পালানোর সময় একজনকে ধরতে সক্ষম হন তারা।
চরখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল জাবেরের ভাষ্য, শিকারীকে ধরার সঙ্গে সঙ্গে তারা সংঘবদ্ধভাবে দা, লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে অজ্ঞাতনামা আটক শিকারীকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ সময় তাদের দায়ের কোপে রক্তাক্ত জখন হন তিনি। এছাড়া পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয় তাদের নৌকা চালককে। আহতাবস্থায় তারা সেখান থেকে ফিরে রাতে শরণখোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “হরিণ শিকারী ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দুই বনরক্ষী। এ ব্যাপারে শরণখোলা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন, “বনরক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









