পেশাগত দায়িত্বের বাইরে গিয়েও সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে ঠাকুরগাঁও সদরের ১৭ নং জগন্নাথপুর ইউনিয়নে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মেরিনা সুলতানা। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এই ইউনিয়নে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে তিনি এখন স্থানীয় কৃষকদের আস্থার ভরসাস্থল।
২০১০ সালে এই ইউনিয়নে যোগদানের পর থেকেই মেরিনা সুলতানা শুধু দাপ্তরিক কাজেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন, কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদে প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে তার ভূমিকা চোখে পড়ার মতো। কৃষি পরামর্শের পাশাপাশি এলাকার মা, শিশু ও দরিদ্র মানুষদের সরকারি বিভিন্ন স্বাস্থ্য সেবা ও সুযোগ-সুবিধা পেতেও তিনি নিরলসভাবে সহায়তা করে আসছেন।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মেরিনা সুলতানা সবসময় সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন এবং যেকোনো সমস্যায় কৃষকদের পাশে দাঁড়ান। বিশেষ করে নারী কৃষকদের কাছে তিনি এক নির্ভরযোগ্য নাম। কৃষিকাজে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন।
নিজের কাজ প্রসঙ্গে মেরিনা সুলতানা বলেন, “সরকারি চাকরির মূল লক্ষ্যই হলো জনগণের সেবা করা। দীর্ঘ ১৬ বছর এই মাটির মানুষের পাশে থাকতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করি। এলাকাবাসীর ভালোবাসা আমাকে আরও উৎসাহিত করে। ভবিষ্যতেও আমি একইভাবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যেতে চাই।”
জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, মেরিনা সুলতানার দায়িত্বশীলতা ও জনবান্ধব আচরণের কারণে ইউনিয়নে কৃষি ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন অনেক সহজ হয়েছে। তার মতো নিবেদিতপ্রাণ মাঠকর্মীদের মাধ্যমেই সরকারের কৃষি সেবা সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে।
কৃষি বিভাগের প্রতি তার এই দীর্ঘকালীন নিবেদন ও সাফল্যের গল্প এখন স্থানীয় পর্যায়ে অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









