পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গাজীপুরের শিল্পকারখানাগুলোতে এবারও ধাপে ধাপে ছুটি ঘোষণা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ সিদ্ধান্তের ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ কমবে এবং উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ২২ জেলার ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা হবে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক।
গত ঈদুল ফিতরে দীর্ঘদিন পর গাজীপুরের মহাসড়কগুলোতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। কয়েক ধাপে শিল্পকারখানায় ছুটি দেওয়ায় একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও যাত্রী সড়কে নামেননি। ফলে যানবাহনের চাপ থাকলেও ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়নি। তবে ঈদের আগের দিন গাজীপুরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানবাহনের চাপ বেড়েছিল।
এবারও একই পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে জেলা ও মহানগর পুলিশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা হবে। যদিও ঈদের আগে টানা বৃষ্টি হলে কিছুটা ভোগান্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন বলেন, “গত ঈদের তুলনায় এবার আরও বেশি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও গতিশীল করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ দুই দশক ধরে ঈদের সময় গাজীপুরের মহাসড়কগুলোতে ভয়াবহ যানজট ছিল নিত্যদিনের চিত্র। বিশেষ করে টঙ্গীর চেরাগ আলী, ভোগড়া বাইপাস, কোনাবাড়ী, টঙ্গী স্টেশন রোডসহ অন্তত ১৫টি পয়েন্টে নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হয়। মহাসড়কের কিছু অংশ সরু হয়ে যাওয়ায় একসঙ্গে একাধিক যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এছাড়া সড়কের ওপর বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোও যানজটের বড় কারণ বলে জানান তিনি।”
পুলিশ সুপার বলেন, “গাজীপুরে প্রায় আড়াই হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে। ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সময়মতো পরিশোধ করা হলে শ্রমিক অসন্তোষ কমবে এবং সড়ক অবরোধ বা বিক্ষোভের ঝুঁকিও হ্রাস পাবে। কারণ বেতন-ভাতা বকেয়া থাকলে শ্রমিকেরা প্রায়ই মহাসড়কে নেমে আন্দোলন করেন, যা দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি করে।”
বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গাজীপুর। ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন লাখো মানুষ যাতায়াত করেন। ঈদের সময় একসঙ্গে অফিস-আদালত ও শিল্পকারখানা ছুটি হওয়ায় যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তবে এবার ধাপে ধাপে ছুটি কার্যকর হলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে আশা করছে প্রশাসন।
যানজট নিরসনে গাজীপুর জেলা পুলিশ ইতোমধ্যে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কালিয়াকৈরের চন্দ্রা মোড়, মাওনা চৌরাস্তা, ভবানীপুর, বাঘের বাজার, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, নয়নপুর, এমসি বাজার ও জৈনাবাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
গাজীপুর জেলা ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান বলেন, “আসন্ন ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত ঈদের মতো এবারও যাত্রীরা অনেকটাই স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারবেন।”
অন্যদিকে গাজীপুর শিল্প-২ এলাকার পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, এবারও শিল্পকারখানাগুলোতে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হবে। এতে শ্রমিকেরা বিভিন্ন সময়ে নিজ নিজ গ্রামে ফিরবেন। ফলে একসঙ্গে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে না এবং মহাসড়কে যানজটও তুলনামূলক কম থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ধাপে ধাপে শিল্পকারখানার ছুটি এবং সময়মতো শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করা গেলে এবারের ঈদযাত্রা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও স্বস্তিদায়ক হতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









