শস্য ভান্ডার খ্যাত সিরাজগঞ্জের তাড়াশের ধান কেনা বেচায় ঢলন প্রথায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। চলমান এ সময়ে এ কৃষক তাঁর জমিতে উৎপাদিত বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের পর বাড়ির উঠান থেকেই তা বিক্রি করছেন। তবে বিলপাড়ের হাট- বাজারে ধানের বাজার এখন নিন্মমুখি। যেমন- গতকাল শনিবার তাড়াশে মিনিকেট ধান বিক্রি করেছেন মাত্র ১০০০ টাকা মণ দরে। ধানের দাম না পেয়ে এ কৃষক অনেকটাই হতাশ।
একদিকে উচ্চ মূল্যে রাসানিক সার, কীটনাশক, ধান কাটা বাবদ কৃষি শ্রমিকদের অস্বাভাবিক মুজরী প্রদান, মাড়াই খরচসহ বোরো আবাদে নানা খরচে ধানের উৎপাদন খরচ এমনিতেই বেড়ে গেছে গত মৌসুমের চেয়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। তার উপর তাড়াশে সাম্প্রতিক বছর গুলোতে ধান কেনা বেচায় ঢলন প্রথায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক আব্দুর রাজ্জাকের মত হাজার হাজার কৃষক। এমনি ভাষ্য এ কৃষকের। ঢলন প্রথা হচ্ছে নিদিষ্ট পরিমাপের চেয়ে কিছু বেশি নেওয়া বা দেওয়া। অথাৎ সাধারণত ৪০ কেজিতে ১ মণ ধরা হয়। কিন্তু বর্তমানে একজন কৃষক মহাজনের কাছে একমণ ধান বিক্রি করলে ৪০ কেজির পরির্বতে ৪২ কেজি বা ৪৩ কেজি ধান দিতে হচ্ছে। যা তাড়াশে ধান বিক্রিতে কৃষকের ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাড়াশে গুল্টা, বিনসাড়া, নওগাঁ, গুড়পিপুল, সহ ৩০- ৩৫ টি প্রসিদ্ধ ধানের হাটে,খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শনিবার শুকনা মিনিকেট বিক্রি হয়েছে ১০৫০ টাকা, ভেজা ১০০০ টাকা, কাটারী ভোগ শুকনা ১২০০ টাকা, ভেজা ১১০০০ টাকা, ব্রি-২৯, স্বল্প পরিমান হাট- বাজারে উঠলেও তা শুকনা বিক্রি হয়েছে ১১৫০, ভেজা ১১০০ টাকা। সব মিলে এখন ধানের বাজার সর্ব নিন্ম ১০০০ টাকা থেকে সর্ব্বচো ১২০০ টাকা।
আবার তাড়াশের কালিদাসনীলি গ্রামের কৃষক মো. সুজন মাহমুদ জানান, হাট বাজারে ঢলন প্রথায় প্রতি মণে ৪০ কেজির পরিবর্তে ধরা হচ্ছে ৪২ কেজিতে একমণ। আর কৃষকের উঠানে প্রতি মণে ৪০ কেজির পরিবর্তে ধরা হচ্ছে ৪৩ কেজি। আর মন প্রতি ২ থেকে ৩ কেজি বেশি না দিলে কোন মহাজন, এলাকার ফরিয়া ধান ক্রেতারা কোন প্রকার ধান কিনছেন না। যার ফলে ধান বিক্রিতে চলনবিলাঞ্চলে হাট- বাজার বা উঠানে চলছে ঢলন প্রথার নামে এক ধরনের অজরকতা।
আর গত ৫- ৬ বছর ধরে। এ ভাবেই প্রচলিত পরিমাপকে উপেক্ষা করে কৃষককে ঠকানোর ঢলন নামের একটি নতুন প্রথা কৃষকদের ঠকিয়ে ধান ক্রেতা মহাজনদের লাভবান হচ্ছেন। যা প্রতিকার পাওয়াও অসম্ভব বলে মনে করেন সিংড়া উপজেলার বিয়াস গ্রামের কৃষক মো. ইমরান হোসেন।
সেরাজপুর গ্রামের কৃষক বাবলু জানান, রাসানিক চাষ, নিরানী, সেচ খরচ সার, কীটনাশক বাবদ প্রায় ১২ হাজার, ধান কাটা, মাড়াই বাবদ ৯০০০ টাকাসহ সর্ব্ব সাকুল্যে এক বিঘা জমিতে একজন কৃষকের খরচ হয় ২১ হাজার। ধানের বাম্পার ফলন হলে বিঘা প্রতি ধান পাওয়া যায় ধানের প্রকার ভেদে ২৩- ৩০ মণ। তাহলে কৃষকের ধানের দাম না পেলে তাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এর উপর ধান বিক্রি কালে ঢলন প্রথায় প্রতি মণে ২- ৩ কেজি বেশি দিলে তা একজন কৃষকের “ বোঝার উপর শাকের আঁটি” হয়ে পীড়া দেয়।
অবশ্য, ধান ক্রেতা মহাজন মো. আলমগীর হোসেন জানান, মিটারে ধান ক্রয়- বিক্রয়ে বস্তার ওজন, ও ভেজা ধান হলে মণ প্রতি ২ থেকে কেজি ধান বেশি নিলেও তেমন লাভ হয়না মহাজনদের। তবে মহাজনরা যখন কৃষকের কেনা ধান বড় মহাজনদের কাছে বিক্রি করেন তখন ৪০ কেজিতেই মণ ধরে কেন বিক্রি করে কেন? - এমন প্রশ্নে মহাজন আলমগীর হোসেন চুপ হয়ে যান। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কুষিবিদ শমীষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবো ঢলন প্রথায় কৃষক ঠকছেন কিনা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









