পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন খামারে এখন চলছে ব্যস্ত সময়। এরই মধ্যে উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের মুরারিপুর কাচারিপাড়া গ্রামের খামারি মো. মনিরুল ইসলাম তার বিশাল আকৃতির ষাঁড় “বাদশা” এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছেন।
খামারি মনিরুল ইসলাম জানান, আসন্ন কুরবানির ঈদ উপলক্ষে তিনি এবার মোট পাঁচটি ষাঁড় প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে একটি ষাঁড়ের “বাদশার” ওজন প্রায় ৭০০ কেজি। বিশাল আকৃতির এই গরুটি দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তার খামারে ভিড় করছেন। অনেকেই “বাদশার” সঙ্গে ছবি তুলছেন এবং খামারের পরিচর্যার প্রশংসা করছেন।
তিনি বলেন, “অনেক যত্ন ও পরিশ্রম করে গরুগুলো লালন-পালন করেছি। প্রতিটি গরুকে সুস্থ ও আকর্ষণীয় রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে। খড়, ভূষি, দানাদার খাবার, ভুট্টা, তরল খাদ্য ও বিভিন্ন ধরনের কাঁচা ঘাস খাওয়ানো হচ্ছে। প্রতিদিন একটি গরুর পেছনে প্রায় ৪০০ টাকা খরচ হচ্ছে।”
মনিরুল ইসলাম আরও জানান, প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা স্টেরয়েড ব্যবহার না করে সুষম খাদ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে গরুগুলোকে বড় করা হয়েছে। বাজারে দাম ভালো থাকলে “বাদশা” প্রায় পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রতি বছরই মনিরুল ইসলাম গরু পালন করলেও এবারের বিশাল আকৃতির “বাদশা” বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এলাকার মানুষ গরুটি দেখতে ভিড় করছেন, যা স্থানীয়ভাবে কুরবানির পশুর বাজারে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
শিবরামপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সত্যজিৎ রায় কার্তিক বলেন, “মনিরুল ইসলামের খামারের গরুগুলো দেখতে প্রতিদিন অনেক মানুষ আসছেন। বিশেষ করে ‘বাদশা’ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। স্থানীয় খামারিরা এখন আরও উৎসাহিত হচ্ছেন।”
উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহরিয়ার মান্নান বলেন, “বর্তমানে বীরগঞ্জ উপজেলায় কুরবানির ঈদ উপলক্ষে খামারিরা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণে এগিয়ে আসছেন, যা অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। আমরা নিয়মিত খামার পরিদর্শন করছি এবং খামারিদের আধুনিক ও নিরাপদ পদ্ধতিতে গবাদিপশু পালন বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি। বিশেষ করে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও স্টেরয়েডমুক্ত পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মনিরুল ইসলামের মতো উদ্যোক্তারা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন এবং অন্য খামারিদেরও উদ্বুদ্ধ করছেন।”
এদিকে, কুরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বীরগঞ্জ উপজেলার খামারগুলোতে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়ছে। স্থানীয় খামারিরা আশা করছেন, এবারের পশুর বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে তাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









