ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম নিধন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে বরিশাল।
রবিবার (১৭ মে) সকালে নগরীর টাউন হলের সামনে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে বর্তমান বিএনপি সরকার ও বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন শহীদ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি।
বর্তমান সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, “আপনারাও যদি মনে করেন ভারতের তাঁবেদারি করে পাঁচ বছর ক্ষমতায় টিকে থাকবেন, তাহলে দেশের জনগণ তা কখনোই মেনে নেবে না।”
‘বরিশালের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে আজ বেলা ১১টার দিকে বরিশাল নগরীর সদর রোডের টাউন হলের সামনে এই প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে মাসুমা হাদি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান সরকার শহীদ ওসমান হাদির রক্তের ওপর ভর করে ক্ষমতায় এসেছে। অথচ আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে দেখলাম, বিগত ইউনূস সরকার ওসমান হাদির রক্তের সঙ্গে স্পষ্ট বেইমানি করে গেছে।”
সরকার প্রধানের একটি সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে যখন লন্ডন থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন, তখন ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা দেখলাম, তিনি পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেও ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেননি। এই প্রশ্ন শুধু আমার একার না, এই প্রশ্ন আজ পুরো বাংলাদেশের।”
বিপ্লবের চেতনাকে ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে মাসুমা হাদি বলেন, “ওসমান হাদির খুনিদের বিচার না হওয়া মানে বাংলাদেশ হেরে যাওয়া, জুলাইয়ের ঐতিহাসিক মহাবিজয় হেরে যাওয়া। জুলাই সনদ নিয়ে এখন যে টালবাহানা চলছে, তা বন্ধ করতে হবে। এই সনদ বাস্তবায়ন না করা মানেই শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা। নিত্যনতুন ইস্যু তৈরি করে মানুষের চোখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে রাখা সম্ভব নয়।”
শহীদ ওসমান হাদিকে কোনো দলের ফ্রেমে না বাঁধার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “ওসমান হাদি কারও একার নয়, কোনো দলেরও নয়। ওসমান হাদি মানেই আজ স্বাধীন বাংলাদেশ। সে আমাদের শিখিয়ে গেছে কীভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অস্ত্র ছাড়া খালি হাতে লড়তে হয় এবং কীভাবে ইনসাফের পক্ষে দাঁড়িয়ে দাবি আদায় করতে হয়।”
বক্তব্যের এক পর্যায়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কার কথা প্রকাশ করেন মাসুমা হাদি। সমাবেশে আসার আগেই তাঁকে রাজপথ থেকে দূরে থাকার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হুমকির বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, “আজ সকালে আমার হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা আসে, যেখানে আমাকে এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে নিষেধ করা হয়। আমাকেও গুলি করে হত্যা করা হতে পারে বলে ভয় দেখানো হয়েছে, যাতে ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে কেউ আর রাজপথে আওয়াজ তুলতে না পারে।”
হুমকিদাতাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি ওসমান হাদিকে আঙুল ধরে হাঁটতে শিখিয়েছি, আমাকে ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। আমি যদি মরেও যাই, আপনারা এই দেশের ১৭ কোটি মানুষ ওসমান হাদির রক্তের বিচার আদায় করে ছাড়বেন।”
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বরিশাল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বরিশালের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশ নেন এবং ভারতের আগ্রাসন ও শহীদদের খুনিদের বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন।
সমাবেশ ও মিছিলকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে টাউন হল এবং এর আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা গেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









