এলপিজির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে সিলিন্ডার উধাও- কিন্তু বাড়তি টাকা দিলেই মিলছে ‘ম্যানেজ’ করা সিলিন্ডার। সরকারি মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হলেও কোথাও ২ হাজার, কোথাও ২ হাজার ৫০০, এমনকি ৩ হাজার টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে। এই অস্বাভাবিক ব্যবধান শুধু বাজারের অনিয়ম নয়; এর পেছনে কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি ও সিন্ডিকেটের যোগসাজশ আছে কিনা, সেটিই এখন খতিয়ে দেখা জরুরি।
দাম বাড়ানোর আগে সরকারি মূল্য ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অথচ তখনও ভোক্তাকে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছে। নতুন দাম ঘোষণার পর সেই অস্থিরতা আরো বেড়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে- সিলিন্ডার যদি সত্যিই না থাকে, তাহলে বাড়তি টাকা দিলে তা কোথা থেকে ‘ম্যানেজ’ হচ্ছে?
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের তথ্যানুসারে, আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। অর্থাৎ আমদানির হিসাবে বড় ধরনের ঘাটতি নেই। তাহলে সংকটের উৎস কোথায়- এই প্রশ্নের উত্তর বের করতেই হবে।
বিইআরসি ১২টি আমদানিকারকের সেপ্টেম্বরের আমদানি ও বিক্রির তথ্য চেয়েছে। এটি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। তবে শুধু তথ্য সংগ্রহ বা বিচ্ছিন্ন অভিযান যথেষ্ট নয়। আমদানিকারক থেকে ডিলার, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থায় কোথায় মজুত, কারসাজি বা কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে, তা শনাক্ত করতে হবে।
এলপিজি এখন কোটি কোটি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি। তাই এ বাজারে অনিয়মের দায় জরিমানা দিয়ে শেষ করা যাবে না। প্রয়োজন কঠোর নজরদারি, সরবরাহব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা।
সরকারি দাম ঘোষণা করলেই হবে না- ভোক্তা যেন সেই দামে সিলিন্ডার কিনতে পারেন, সেটিই নিশ্চিত করতে হবে। ‘সিলিন্ডার নেই’ বলে ফিরিয়ে দিয়ে বাড়তি দামে ‘ম্যানেজ’ করার এই বাণিজ্য বন্ধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









