সারা দেশে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সমমানের পরীক্ষাও। এবার মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত রাখতে এবার নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে, যেখান থেকে দেশের যেকোনো পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এছাড়া দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে থাকবে বডি–ওর্ন ক্যামেরা।
সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ থাকবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে কেউ দেরিতে এলে তার তথ্য রেজিস্টারে সংরক্ষণ করে কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।
প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি (বিএমটি)-এর বাংলা–২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এবার ৭৭টি বিষয়ে মোট ২১ দিনে লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন বিভিন্ন কোর্সের তাত্ত্বিক পরীক্ষা জুলাই ও আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সারা দেশে পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ৬৯৭টি। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন পরীক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ৪৬১টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী।
বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৩ লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে। এছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইনের আওতায় এবার পরীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে। নকল বা প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো পরীক্ষার্থী নকলের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ দিকে পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। নগরবাসীকে যানজট এড়াতে সময় হাতে নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়িতে আসা পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রের সামনে না নেমে কাছাকাছি সুবিধাজনক স্থানে নেমে হেঁটে কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, যেসব দিনে পরীক্ষা থাকবে না, সেসব দিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চলবে। নকলের অভিযোগ থাকা কয়েকটি ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করা হলেও দুর্গম ও পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কিছু কেন্দ্র বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া সেভেন্থ–ডে অ্যাডভেন্টিস্ট সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শনিবারের পরীক্ষা সূর্যাস্তের পর বিশেষ ব্যবস্থায় নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









